বিশেষ প্রতিবেদন: “মাসিক অসময়ের খেরোপাতা” প্রকাশক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নির্মোহ নেতা এনামুল হক দানু’দের আজ বড় প্রয়োজন, অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী তে হৃদয় কাঁপানো শ্রদ্ধা-স্মরণ…!
মরহুম কাজী ইনামুল হক দানু। যিনি আজীবন দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। তার মতো নির্লোভ, প্রচারবিমুখ, দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতা বর্তমান সময়ে বড়ই বিরল। আগামীকাল ২২শে সেপ্টেম্বর তার ৮ম মৃর্ত্যুবার্ষিকী। চট্টগ্রামের মাটি ও মানুষের আদি অকৃত্রিম বন্ধু কাজী ইনামুল হক দানু। ১৯৬০-৭০ দশকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম সিটি কলেজ শাখার নেতা। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে তিনি চট্টগ্রামের চকবাজারের মোড়ে পাকিস্তানের গভর্নর কুখ্যাত মোনায়েম খানের গাড়ীতে জুতা নিক্ষেপ করে পুরো পাকিস্তান জুড়ে আলোচিত হয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার পর চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে তিনি অবৈধ সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সামরিক বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন, আমৃত্যু এই নির্যাতনের শারীরিক কষ্ট তাকে ভোগ করতে হয়। সুস্পষ্ট ঝাঁঝালো প্রতিবাদী বক্তৃতা, সততা ও সাধারন চলাফেরা তাকে পরিনত করেছিল একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় রাজনৈতিক নেতায়। চলাফেরায় ঠাটবাট , নেতা সুলভ দাম্ভিকতা ছিলনা , “মাই ম্যান” রাজনীতি তিনি করতেন না। সরকারী দলের মহানগর কমিটির সেক্রেটারি হবার পরেও তার সাদামাটা জীবনে এর কোন ছাপ পরেনি। চেষ্টা করেননি সরকারের কোন প্রতিষ্ঠানে মনোনীত হতে বা রাজনীতি বিক্রি করে বাণিজ্যে করতে।
ফাইন আর্টসের ছাত্র ছিলেন তিনি। কবিতা, ছোট গল্প লিখতেন , চিত্র শিল্পী ছিলেন। তার একই কমিটির সভাপতি মরহুম মহিউদ্দিন চৌধুরী ভাই এর মুখে শোনা মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে তিনি কালেমা পড়ছিলেন আবার কখনো তন্দ্রাচ্ছলে অবচেতন মনে বিপ্লবী কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। চকবাজারের জয়নগরের যৌথ পরিবারে পৈতৃক ভিটাতে তিনি developer কোম্পানির সাথে মিলে মাথা গুজার ঠাই করা ছাড়া বিশাল পরিবারের জন্য কিছুই রেখে যেতে পারেন নি। বর্তমান সময়ে রাজনীতির নামে পদ নিয়ে আদর্শকে কেজি হিসেবে বিক্রি করে অনেক বর্ণচোরা হাইব্রিড শতকোটি হাজার কোটি টাকা আয় করছে।
দুর্বৃত্তায়নের , সুবিধাবাদী , গনবিরোধী রাজনীতির সাথে মুক্তিযোদ্ধা দানু কোন সময় আপোষ করেন নাই। সরকারি দলের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার পরও তিনি প্রায় নিঃস্ব অবস্থায় পরলোকে পারি জমান। বর্তমান সময়ে রাজনীতির গুনগত পরিবর্তন ও আদর্শিক ধারা বিকাশে কাজী ইনামুল হক দানুর মতো নেতার বড়ই প্রয়োজন। অসীম সাহসী আর কঠিন ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন এই প্রয়াত মানুষটি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে কখনো দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে আলাদা বলয় সৃষ্টি করার রাজনীতি করেননি। দীর্ঘ সময় নগর আওয়ামী রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থেকে অর্জন করেছিলেন দলীয় সাধারন সম্পাদকের পদ।
দু:সময় গুলোতে নিজ গলায় স্লোগান দিয়ে কর্মীদের উজ্জীবিত করে রাখা এই প্রয়াত নেতা শুধুই সংগঠনকে ভালবাসতেন আর ক্ষমতার রাজনীতিকে অবজ্ঞা করতেন। বর্তমানে দলীয় সদস্যপদ না থাকা সত্বেও সারাদেশে কথিত কিছু নেতা নামধারীরা জননেতা হওয়ার আকাঙ্খা দেখে, কিন্তু দানু ভাই নিতান্তই সংগঠন আর কর্মীদের নিয়েই সভা সমাবেশ আর আড্ডা করেই সময় কাটাতেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার জন্যই ছিল যার সকল রাজনৈতিক কর্মযজ্ঞ কিভাবে সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়া যায় এটাই ছিল তার ব্রত। আমাদের প্রিয় দানু ভাই তাই কখনো এম.পি কিংবা মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন না। আমার বাবার খুব কাছের এবং স্নেহভাজন ছিলেন।
আমার মামাদের বাল্য বন্ধু ছিলেন সেই সূত্রে কখনো মামা , কখনো ভাই ডাকতাম। দুজনেই প্রায় কাছাকাছি সময়ে ফেসবুকে একাউনট করেছিলাম, তিনি অনলাইনে খুব মনোযোগ দিয়ে সবার লেখা দেখতেন, মন্তব্য করতেন। তার জয়নগরের বাসায় দুজনে মিলে একটি পেইজও খুলেছিলাম “চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগ” নাম দিয়ে। দলের সেক্রেটারি থাকাকালীন সময়ে মাসিক পত্রিকা “অসময়ের খেরোপাতা” প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য অসময়ে মৃত্যু কেড়ে নেয় তার সৃজনশীল সব কাজ। আসলে স্বল্প পরিসরে দানু ভাইকে নিয়ে বিশ্লেষনের করে শেষ হবে না , কারন তিনি ছিলেন বহু গুনে গুনান্বিত। তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন। সালাম বিপ্লবী জননেতা “দানু ভাই”।।
(হাসান মনসুর এর ফেইসবুক ওয়াল থেকে সংগৃহীত।)


