নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম বোয়ালখালী উপজেলার ৮নং শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের (নৌকা প্রতীক) মনোনয়ন পেয়েছেন আলোচিত ইয়াছমিন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোহাম্মদ মোকারম।
তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। ইউনিয়নের তৃণমূল নেতকর্মীদের চাহিদা সম্পন্ন প্রার্থীকে বাদ দিয়ে মোহাম্মদ মোকারমকে নৌকার মনোনয়ন দেওয়ায় দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় ভোটারদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, আনোয়ারা উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
গত (০৪ ডিসেম্বর) ঘোষিত এই তালিকায় দেখা যায়-বোয়ালখালী উপজেলায় ৭ ইউনিয়নের শাকপুরা ইউপিতে নৌকা প্রতীক পেলেন আলহাজ্ব মো. আব্দুল মন্নান, সারোয়াতলীতে মো. বেলাল হোসেন, পোপাদিয়ায় এসএম জসিম উদ্দিন, শ্রীপুর-খরন্দীপ মোহাম্মদ মোকারম, আমুচিয়া কাজল দে, করলডেঙ্গা মনসুর আহম্মদ ও চরণদ্বীপ ইউনিয়নে মোহাম্মদ শামশুল আলম।
অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন-উপজেলা এবং জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সুপারিশে কেন্দ্রে যে তালিকা পাঠানো হয়েছে তা সঠিক যাচাই বাচাই না করেই শ্রীপুর- খরন্দীপ ইউনিয়নে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
কেননা যাকে নৌকা মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি আলোচিত মুসলিম মেয়েকে হিন্দু বলে পুড়িয়ে দেওয়া মামলার এজাহারভূক্ত ১৬ নং আসামি। যার বোয়ালখালী থানা মামলা নং-২১/২১৩। মামলার বাদি নিহত ইয়াছমিনের মা রোকসানা বেগম ও সিনিয়র আইজীবি জিয়া হাবিব আহসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিষয়টি জানাজানির পর এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। মোহাম্মদ মোকারম হত্যা মামলার আসামি। এ মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে দুমাসের জামিন নিয়েছিলেন। একই মামলায় তার অনেক আত্মীয়ও রয়েছেন। মামলাটি তদন্ত করে বোয়ালখালী থানা পুলিশ অভিযোগপত্র দিয়েছে। তাতে নারাজি আপত্তি শুনানি রয়েছে আগামী ২৩ ডিসেম্বর।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন সহসভাপতি নাম প্রকাশে অনাগ্রহ দেখিয়ে অভিযোগ করেন, ‘মোকারম অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির লোক। শ্রীপুর-খরন্দীপ এলাকার সবধরনের অপরাধে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এমনকি, সরকারি খাল, নদীনালা-জমি দখলের সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মূলত মোকারম টাকা ও গায়ের জোরে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের পদে ছিলেন। তার পরিবারের কেউই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেননি। তিনি নিজেও একজন বির্তকিত লোক।’
অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রার্থীকে বাদ দিয়ে হত্যা মামলার আসামিকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়ে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী বলেন, ‘তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করে এমন সিদ্ধান্তে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মোকারম পরিবারের অধিকাংশ লোকই অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।’
এ প্রসঙ্গে খরন্দীপ এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা সাহাব উদ্দীন বলেন, ‘তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অন্য প্রার্থীকে মনোনীত করেছিল। কিন্তু কেন্দ্র থেকে কোন যাদুবলে মোকারমকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়। প্রার্থী বদলের খবরে এলাকার মানুষ ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। আশা করছি দলের হাইকমান্ড বিষয়টি বিবেচনায় নিবেন। আর তৃণমূলের পছন্দের প্রার্থীকে জনগণ বিজয়ী করবেন। কোন হত্যা মামলার আসামিকে নয়।’
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা তৃণমূলের মতামত নিয়ে কেন্দ্রে তালিকা প্রেরণ করেছি। মনোনয়ন বোর্ড হয়তো জ্যেষ্ঠতার বিচারে বা বর্তমান চেয়ারম্যানকে অগ্রাধিকার দিয়ে মনোনয়ন দিয়েছেন। এছাড়া তৃণমূলের মতামত খুব একটা পরিবর্তন হয় না। তবে, এ ক্ষেত্রে আমরা শতভাগ স্বচ্ছতা দেখিয়ে থাকি।’
মোকারম হত্যা মামলার আসামি কি না সে সম্পর্কে ধারণা নেই বলে জানান তিনি। বিষয়টি উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের জিজ্ঞেস করার পরামর্শ দেন তিনি।
হত্যা মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবি জিয়া হাবিব আহসান বলেন, উনি তো হত্যা মামলার আসামী। তার জামিনের মেয়াদ শেষ। উনি কিভাবে নির্বাচন করবেন। উনার মনোনয়নতো বাতিল হওয়ার কথা। আর পুলিশ যে চার্জশিট দিলো তা আদালতে এখনও গৃহীত হয়নি।’
অভিযুক্ত নৌকা মনোনয়ন পাওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ মোকারমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিসিভ না করায় মন্তব্য পাওয়া যায়নি।’
তফসিল অনুযায়ী, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে বোয়ালখালীতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি।


