রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি :
সন্তানের জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে পারেন মা। সন্তানের জীবন বাঁচাতে একটি কিডনি দিয়ে আবারও সেটাই প্রমাণ করলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনার ছলিমা বেগম (৪০)। ছেলের জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিয়েছেন তিনি। তবে ছেলে মুহাম্মদ ইমনকে (২০) বাঁচাতে পারেনি।
ছলিমা বেগম একই ইউনিয়নের মোহাম্মদ সোলাইমানের (৫৭) স্ত্রী।
জানা যায়, ২০২০ সালে অসুস্থতা অনুভব করে শিক্ষার্থী মুহাম্মদ ইমন(২০)। চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তার একটি কিডনি ড্যামেজ হওয়ায় কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে জানান ভারতীয় চিকিৎসক। পরে তার মা ছেলেকে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিয়ে দেন। কিডনি প্রতিস্থাপন করিয়ে ছেলেকে নিয়ে আসা হয় বাংলাদেশে। কিডনি প্রতিস্থাপনের আট মাসের মাথায় আগের মতো আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে রাঙ্গুনিয়া হেলথ্ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) রাতে মৃত্যু হয় ইমনের।
ইমনের মামা চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়ন ৪ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য গাজী এনাম জানান, মোহাম্মদ ইমন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলো। সে চট্টগ্রাম বাইতুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসা থেকে দাখিলে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। পরে জটিল রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা নিতে গিয়ে লেখাপড়া স্থগিত করা হয়। ভারত থেকে চিকিৎসা শেষে রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। কিন্তু হঠাৎ আবারও অসুস্থ হলে রাঙ্গুনিয়া হেলথ্ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ইমনের।


