রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) মুছে ফেলা হয়েছে ‘জুলাই-আগস্ট আন্দোলন’ ঘিরে দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতি। সোমবার (১১ আগস্ট) সকালে একাডেমিক ভবনের দেয়ালে নতুন রঙ করার সময় এ ঘটনা ঘটে। গ্রাফিতিগুলো মুছে ফেলার বিষয়টি ক্যাম্পাসে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আন্দোলনের স্মারক হিসেবে দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতিগুলো ছিল ‘স্বৈরাচার বিরোধী’ প্রতিবাদের প্রতীক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সরাসরি নির্দেশে না হলেও, তাদের তত্ত্বাবধানেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে এটাই ছিল আমাদের অভিনব প্রতিবাদ। গ্রাফিতি মুছে ফেলা আমাদের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।” অপর একজন শিক্ষার্থী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ ঘটানয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১ এর পশ্চিম দিকের দেয়ালে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়কার কিছু নিদর্শন মুছে ফেলার নির্দেশনায় নিয়োগকৃত রংমিস্ত্রি ভুল করে একই ভবনের পূর্বদিকের জুলাই গ্রাফিতিগুলোও মুছে ফেলেছে। এটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক।”
তিনি আরও লিখেন, খুব দ্রুত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নতুন করে ‘জুলাই গ্রাফিতি’ অঙ্কনের আয়োজন করা হবে। উপাচার্যের ভাষ্য, “আমরা শিক্ষক, কর্মকর্তা, ছাত্রছাত্রী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের আশ্বস্ত করছি যে, অতি দ্রুতই একটি গ্রাফিতি অঙ্কন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুনরায় স্মারকটি নির্মাণ করা হবে।”
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগেও জুলাই আন্দোলনের স্মরণে নতুন ম্যুরাল স্থাপন করেছিল প্রশাসন। সেই প্রশাসনই এবার গ্রাফিতি মুছে ফেলায় অনেক শিক্ষার্থী দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও বিস্ময়ের মধ্যে পড়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, এটি ছিল অনিচ্ছাকৃত ভুল। তবে শিক্ষার্থীদের একাংশ বলছে, এই ভুলের পেছনে প্রশাসনিক অবহেলা কিংবা উদ্দেশ্যমূলক পদক্ষেপ থাকতে পারে—এমন সন্দেহও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।


