বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় ইসকন সন্ত্রাসী চিন্ময়সহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও চট্টগ্রাম কোর্টের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও বহিষ্কৃত ইসকন সন্ত্রাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত। সোমবার (২৫ আগস্ট) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দীন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দাখিল করা চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। শুনানিতে মামলার বাদী ও নিহত আলিফের পিতা জামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

বাদীপক্ষের নিয়োজিত আইনজীবী ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান রিপোর্টে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় এজাহারনামীয় ৩ জনকে এবং সঠিক নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তদন্তে প্রাপ্ত ১ জনকে অব্যাহতির প্রার্থনা করেছেন। উক্ত ব্যক্তির নাম সুকান্ত দত্ত, যিনি সিএমপির অস্ত্র, মাদক, চুরি, ডাকাতিসহ ৮টি মামলার আসামি। তদন্ত রিপোর্টেও তাকে “দুর্ধর্ষ আসামি” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি আদালতে আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে সুকান্ত দত্তের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তদন্ত রিপোর্টে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ঘটনার পর মূল হত্যাকারীদের সঙ্গে তার ছবি ভাইরাল হয়েছে। সুতরাং তাকে আসামি হিসেবেই অন্তর্ভুক্ত রাখার আবেদন জানানো হয় এবং আদালত আবেদন গ্রহণ করেন।

আদালত সুকান্ত দত্তকে সহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যুর আদেশ দেন। এর আগে গত ১০ আগস্ট আদালত বাদীর উপস্থিতিতে রিপোর্ট শুনানির জন্য সমন জারি করেছিলেন। সেই আদেশ মোতাবেক সোমবার বাদী জামাল উদ্দিন আদালতে হাজির হয়ে তদন্ত প্রাপ্ত আসামি নিয়ে কোনো আপত্তি না থাকার কথা জানান।

বর্তমানে ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ২০ জন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন এবং ১৯ জন পলাতক আছেন। চার্জশিটে উল্লেখিত আসামিদের মধ্যে আছেন— চন্দন দাশ মেথর, রিপন দাশ, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাশ, আমান দাশ, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাশ, ওমকার দাশ, বিশাল, লালা দাশ, সামীর, সোহেল দাশ, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবী চরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাশ, সুমিত দাশ, সনু দাস, সকু দাশ, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস ও দ্বীপ দাস।

গত বছরের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পিতা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা এবং আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা দায়ের হয়।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত