বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

সিডিএ’র অর্গানোগ্রামে ২ পদে ৫ কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অর্গানোগ্রামে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদ রয়েছে মাত্র দুটি। কিন্তু বাস্তবে বর্তমানে ৫ জন কর্মকর্তা এই পদে দায়িত্ব পালন করছেন। মামলা জটিলতায় পদায়নে বাধা থাকলেও সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে গত বছরের ২ অক্টোবর অফিস আদেশের মাধ্যমে ৫ কর্মকর্তাকে তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সচিব রবীন্দ্র চাকমা স্বাক্ষরিত এ আদেশ নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এমনকি অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে এ বিতর্কিত পদায়ন হয়েছে কিনা তা নিয়েও চউকে সমালোচনা চলছে।

চউকের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ২ অক্টোবরের অফিস আদেশে ৫ জন কর্মকর্তাকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামসকে একই পদে রেখে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী-১ এর দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে এবং পাশাপাশি তিনি আউটার রিং রোড প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এ.এ.এম. হাবিবুর রহমানকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী-২ এর দায়িত্বের পাশাপাশি নির্মাণ বিভাগ-১, যান্ত্রিক বিভাগ এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজের তদারকি করতে বলা হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাং মনজুর হাসান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নির্মাণ বিভাগ-২, ৩, নির্বাহী প্রকৌশলী (আইপি) ও কালুরঘাট-চাক্তাই প্রকল্পে। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলামকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্ব দিয়ে জলাবদ্ধতা প্রকল্প, এরিয়া প্ল্যানিং ও প্রকল্প বিভাগের তদারকি করতে বলা হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী এ.জি.এম. সেলিম তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয় এবং ইমারত নির্মাণ কমিটি-১ ও ২ এর চেয়ারম্যান হিসেবে।

অফিস আদেশে বলা হয়, এসব কর্মকর্তারা এ দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে কোনো অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পাবেন না এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রেও কোনো অগ্রাধিকার ভোগ করবেন না। অথচ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্মচারী চাকরি বিধিমালা-১৯৯০ অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদ একটিই। ২০০৮ সালে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে তা বাড়িয়ে ২ করা হয়, কিন্তু বর্তমানে ২ পদের বিপরীতে ৫ জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সিডিএ’র ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, “সিডিএর অর্গানোগ্রামে ৫ জন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদ নেই, আছে মাত্র ২টি। তবে ৫ জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে—এটি সত্য। এ বিষয়ে আমার কিছু করার নেই। পদায়ন প্রশাসনের এখতিয়ার। আমাকে আগে কিছু জানানো হয়নি, অফিস আদেশ এলে আমরা বাস্তবায়ন করতে বাধ্য।”

লোকবল সংকটের কথা উল্লেখ করে সিডিএর কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে একাধিক কাজ করানো হলেও একই পদে একাধিক কর্মকর্তার পদায়ন অস্বাভাবিক ও প্রশ্নবিদ্ধ। বিষয়টি অজ্ঞতার কারণে হয়নি, বরং এতে দুর্নীতি বা অনৈতিক লেনদেনের ছাপ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জানতে সিডিএ সচিব রবীন্দ্র চাকমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল কবিরের সঙ্গেও একাধিকবার ফোন ও বার্তা দেওয়ার পরও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


 

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত