রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
Single Top Banner

রাউজানে বিপুল অস্ত্রসহ বিএনপি কর্মী হাকিম হত্যায় আরও দুইজন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট এলাকায় বিএনপি কর্মী আব্দুল হাকিমকে নিজ প্রাইভেট কারের ভেতর গুলি করে হত্যার ঘটনায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ হত্যায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার (৯ নভেম্বর) রাতে রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরীহাটের আইয়ুব আলী সওদাগরের বাড়িতে জেলা পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। এতে অস্ত্রসহ দুইজন গ্রেফতার করা হয় ।

গ্রেফতার দুইজন হলো- রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরীহাহট এলাকার আইয়ুব আলী সওদাগরের বাড়ির মৃত মোশওকতের ছেলে মোঃ সাকিব ও একই এলাকার সোবহান ওরফে শহর মুলুকের ছেলে মো. শাহেদ। এ ঘটনায় মোট ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকী চারজন হলো- মো. আব্দুল্লাহ খোকন প্রকাশ লেংড়া খোকন, মো. মারুফ, জিয়াউর রহমান ও মো. সাকলাইন হোসেন।

অভিযানে হাকিম হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ৪টি বিদেশি পিস্তল, ১টি রিভলভার, ১টি চায়না রাইফেল, ১টি শর্টগান, ৪৯ রাউন্ড রাইফেলের গুলি (৭.৬২), ১৭ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ, ১৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলি (৭.৬৫), ৭টি ম্যাগজিন, ২টি দেশীয় রামদা, ১টি রকেট ফ্লেয়ার, ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৫০ গ্রাম গাঁজা এবং ৯৬ হাজার নগদ টাকাসহ দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিং-এ তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু।

তিনি বলেন, গত ৭ অক্টোবর সকালে নিহত হাকিম নিজ প্রাইভেটকারযোগে রাউজানে হামিম এগ্রো ফার্মে যান। বিকেলে চট্টগ্রাম শহরে ফেরার পথে হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট ব্রিজের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে মোটরসাইকেলযোগে আসা অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা তার গাড়ির সামনে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেন।

ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা ও হাটহাজারী থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩১ অক্টোবর রাউজান থানাধীন বাগোয়ান ইউনিয়নের গরীব উল্লাহ পাড়া এলাকা থেকে মো. আব্দুল্লাহ খোকন (প্রকাশ ল্যাংড়া খোকন)-কে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে পরবর্তীতে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

খোকনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ২ নভেম্বর রাউজান থানাধীন নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরীহাট এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মো. মারুফকে গ্রেফতার করা হয়। মারুফের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের অবস্থান জানা যায়, যা মো. সাকলাইন হোসেনের হেফাজতে ছিল।

পরবর্তীতে ৪ নভেম্বর রাতে হাটহাজারী থানার একটি বিশেষ টিম রাউজান থানাধীন নোয়াপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মো. সাকলাইন হোসেনকে গ্রেফতার করে। তার হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একনলা বন্দুক, একটি এলজি ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ রিমান্ড জিজ্ঞাসাবাদে মারুফ, জিয়া, ও সাকলাইনের দেয়া তথ্যে রবিবার (৯ নভেম্বর) রাউজান থানাধীন নোয়াপাড়া চৌধুরীহাটের আইয়ুব আলী সওদাগরের বাড়িতে জেলা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মো. সাকিব ও মো. শাহেদ নামে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।। উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বেশ কিছু অস্ত্র।

গ্রেফতারকৃতরা জানায়, কর্ণফুলী নদীতে বালুমহলের নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এ পর্যন্ত আব্দুল হাকিম হত্যাকান্ডে মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হাকিম হত্যাকাণ্ডে বাকি আসামিদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত