চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে প্রকাশ্যে এক যুবককে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আখ্যা দিয়ে টেনেহিঁচড়ে অপহরণের পর আটকে রেখে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরে ৬০ হাজার টাকা আদায়ের পর মারধর করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অপহৃতের পিতা নগরের পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- আশরাফুল আমিন (২৯), মো. তারিক আসিফ (২৭) ও শাহাদাত হোসেন শান্ত (২০)।
এদিকে, হাসপাতাল থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার (৯ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ এলাকার বেসরকারি হাসপাতাল পার্কভিউতে এই ঘটনা ঘটে।
ভাইরাল হওয়া ১৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সবার সমানে দিয়ে প্রকাশ্যে চার থেকে পাঁচজন তরুণ ওই যুবককে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। তার দুই হাত দুই পাশ থেকে ধরে রেখেছেন তরুণেরা।
তুলে নিয়ে যাওয়া যুবকের নাম ফয়সাল মাহমুদ (৩২)। তিনি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ এলাকার ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। বর্তমানে চট্টগ্রামে হেলথ কেয়ার ফার্মাসিটিক্যাল্স নামে ওষুধ কোম্পানীর মার্কেটিং সেলস্ অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। এ ঘটনায় তার পিতা মো. জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার আসামিরা হলো- মোহাম্মদ আবুল সাজ্জাদ ওরফে আদর (৩২), আশরাফুল আমিন (২৯), মো. তারিক আসিফ (২৭), শাহাদাত হোসেন শান্ত (২০), ও আমিমুল এহসান ফাহিম (২৫)।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ফয়সাল মাহমুদ গত ৪ বছর ধরে চট্টগ্রাম শহরে হেলথ কেয়ার ফার্মাসিটিক্যাল্স নামের ওষুধ কোম্পানীর মার্কেটিং সেলস্ অফিসার হিসেবে কর্মরত। গত রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ফয়সাল পাঁচলাইশ মডেল থানাধীন পার্কভিউ হাসপাতালে ডক্টর ভিজিটে আসে। রাত ৮টায় হাসপাতালের ৪র্থ তলায় ফয়সাল অবস্থানকালে আসামিরা ফয়সালকে বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি, চরথাপ্পড় ও লাথি মেরে জোরপূর্বক টেনে হেঁছড়ে হাসপাতাল থেকে বের করে একটি হাইস গাড়ীতে তুলে। তাকে অপহরণ করে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানাধীন গহিরা এলাকার একটি পরিত্যক্ত বিল্ডিংয়ে নিয়ে আটকে রাখে। অপহরণকারীরা ফয়সালকে পরিত্যক্ত বিল্ডিংয়ে আটক রেখে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। একপর্যায়ে অপহরণকারীরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেখিয়ে ফয়সালের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তখন ফয়সাল অপহরণকারীদের মানিব্যাগে থাকা দুই হাজার টাকা বের করে দেয়।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, অপহরণকারীরা তাদের দাবীকৃত টাকা না দিলে ফয়সালের বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি প্রদান করে। সোমবার (১০ নভেম্বর) সকাল ৯টায় অপহরণকারীরা ফয়সালকে ভয় দেখিয়ে রাউজান থানা এলাকার একটি বুথে নিয়ে তার ডাচ্ বাংলা ব্যাংক লিঃ এর একাউন্ট থেকে ডেবিট কার্ড দিয়ে ১৮ হাজার টাকা উত্তোলন করে নেয়। পরে বেলা সাড়ে ১১ টায় অপহরণকারীরা ফয়সালকে ভয় দেখিয়ে খুলশী থানাধীন জিইসি মোড়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংক লিঃ-এর একটি বুথে নিয়ে তার থেকে ডেবিট কার্ড দিয়ে দুই ধাপে মোট ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করিয়ে নেয়। অপহরণকারীরা ফয়সালের কাছ থেকে সর্বমোট ৬০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের পর বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে চকবাজার থানাধীন প্যারেড মাঠে এনে ছেড়ে দেয়।
এ প্রসঙ্গে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে ছাত্রলীগ নেতা আখ্যা দিয়ে পার্কভিউ হাসপাতাল থেকে ফয়সাল নামে এক যুবককে অপহরণ করা হয়। অপহরণের পর জেলার রাউজান উপজেলায় একটি পরিত্যাক্ত বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখনে তাকে মারধর করে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ৬০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। অপহরণকারীরা তার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করেছিল। এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। বাকীদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান আছে।’


