মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
Single Top Banner

গবাদিপশুর উৎপাদন কমেছে চট্টগ্রামে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রামে চলতি বছর গবাদিপশুর স্থানীয় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি গবাদিপশু হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৮ লাখ ৬০ হাজার ৮৮২টি। অর্থাৎ এক বছরে উৎপাদন কমেছে ৭৭ হাজার ৭৩১টি—যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

শুধু গরু নয়, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যাও কমেছে। এ বছর গরু হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি, যা গত বছর ছিল ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৮১৩টি। এছাড়া ছাগল নেমে এসেছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টিতে (গত বছর ২ লাখ ৫১ হাজার ৭৪টি), মহিষ ৪৭ হাজার ৮৩৪টি (গত বছর ৬৪ হাজার ১৬৩টি) এবং ভেড়া ৪১ হাজার ৪২৩টি (গত বছর ৫৫ হাজার ৬৯৭টি)।

খামারিরা বলছেন, গো-খাদ্য, ওষুধ এবং শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে অনেক খামারি গরু হৃষ্টপুষ্টকরণে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন, কেউ কেউ খামার বন্ধও করে দিয়েছেন। জানা গেছে, জেলায় ২০০ থেকে ৩০০টি খামার কমে গেছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, গো-খাদ্যের বাজারে কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় হঠাৎ দাম বেড়ে যাচ্ছে। এতে খামার পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে, যা উৎপাদন ব্যয়ে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।

এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুর চাহিদাও কিছুটা কমেছে। এ বছর চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চাহিদা ধরা হয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি, যা গত বছরের তুলনায় ৭৭ হাজার ৫৯৮টি কম। স্থানীয় উৎপাদনের ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার ৫২০টি পশু।

তবে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে পশু সরবরাহ আসবে এবং চাহিদা কম থাকায় শেষ পর্যন্ত কোনো সংকট হবে না। বরং বাজারে পর্যাপ্ত পশু থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত