মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
Single Top Banner

লোহাগাড়ায় টেন্ডার হলেও হচ্ছে না সড়ক সংস্কার, টিকাদারের বিরুদ্ধে টাকা খাওয়ার অভিযোগ

আবছার উদ্দিন, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ঠাকুরদীঘি থেকে জঙ্গল পদুয়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা দীর্ঘদিনের। পুরো সড়কের পিচ উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ। কাদা আর ভাঙাচোরা রাস্তা মাড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ছোট-বড় যানবাহন। প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। বালু, ইট ও গাছবাহী ভারী যান চলাচলের কারণে সড়কের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক যুগ ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা। বিকল্প সড়ক না থাকায় বাধ্য হয়েই সীমাহীন কষ্ট সহ্য করে চলাচল করতে হচ্ছে। এমনকি রোগী হাসপাতালে নেওয়ার সময় মাঝপথে ডেলিভারি হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান এলাকাবাসী।

সড়কটির সংস্কারের জন্য টেন্ডার হলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি। উপজেলা এলজিইডি সূত্র জানায়, সব নিয়ম মেনে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং এস.আর ট্রেডিং নামে একটি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ঈদের পর কাজ শুরু করার কথা জানালেও তা বাস্তবায়ন করেনি। পরে তাদের টেন্ডার বাতিলের জন্য আবেদন করা হয়েছে। বাতিল হলে পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

গত শনিবার (২ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, ঠাকুরদীঘি থেকে জঙ্গল পদুয়া পর্যন্ত সড়কের বেশির ভাগ অংশে পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন। সড়কের ওপর ছড়িয়ে থাকা পাথরের খণ্ড ও খানাখন্দের কারণে প্রায়ই ছোট যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।

সড়কের আশপাশে রয়েছে ছয়টির বেশি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু, ইট ও গাছ ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে বর্ষার আগে সড়কের কাজ বন্ধ রাখতে প্রভাব খাটিয়েছেন।

এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রায় ১৭ বছর ধরে আমরা কষ্ট পাচ্ছি। এলাকার কিছু বালু, ইট ও গাছ ব্যবসায়ী টাকা দিয়ে সড়কের কাজ বন্ধ রেখেছে।”

আরেক দোকানি বলেন, “এই সড়ক সংস্কারের দাবিতে স্থানীয় ৭০০ মানুষের স্বাক্ষর নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। তখন এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরুর আশ্বাস দেওয়া হলেও দুই বছরেও কাজ হয়নি।”

জঙ্গল পদুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা আসে। প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে তারা।

ধুলোবালির কারণে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্কুলের সামনের সড়কের একাংশ ভেঙে পুকুরে চলে গেছে। আর একটু ভাঙলেই বিদ্যালয়ের দেয়াল ধসে পড়বে।”

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম আক্তার জানায়, “বাড়ি থেকে স্কুল কাছে হওয়ায় হেঁটে যাই। কিন্তু রাস্তা দিয়ে ঠিকমতো হাঁটা যায় না। গরমের দিনে ধুলাবালিতে শ্বাসকষ্ট হয়, আর বর্ষায় কাদা-পানি মেখে স্কুলে যেতে হয়।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য আমান উল্লাহ বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে শুনছি সড়ক হবে, কিন্তু হয়নি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গত বছরের ডিসেম্বরে টেন্ডার আহ্বান করা হয় এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে লে-আউটের মাধ্যমে ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ভোটের কারণে তখন কাজ শুরু হয়নি। পরে ঈদের পর কাজ শুরুর কথা বললেও তা আর করেনি। পরে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিতিশীলতার অজুহাত দেখানো হয়।”

তবে বালু, ব্রিকফিল্ড ও গাছ ব্যবসায়ীদের টাকা দিয়ে কাজ বন্ধ রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার কফিল উদ্দিন। তিনি বলেন, “বৈশ্বিক পরিস্থিতি ভালো না থাকায় এবং প্রয়োজনীয় মালামাল না পাওয়ায় কাজ শুরু করতে পারিনি।”

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, “সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না করায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাদের দেওয়া চিঠির জবাবের যৌক্তিকতা যাচাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।”

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত