মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
Single Top Banner

সমুদ্র বন্দর নিরাপত্তায় কোস্ট গার্ডের সফলতা, সুনীল অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশের সুনীল অর্থনীতির বিকাশ এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাহিনীটি দেশের সমুদ্র, উপকূলীয় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি বাণিজ্যিক কার্যক্রম সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সমুদ্র ও নৌপথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে বাণিজ্যিক পরিবেশ আরও নিরাপদ ও স্থিতিশীল হওয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং সুনীল অর্থনীতির বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরে বাহিনীটি জানায়, শিল্পখাত, জ্বালানি সরবরাহ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারব্যবস্থা অনেকাংশেই এসব বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। তাই নিরাপদ ও দক্ষ বন্দর ব্যবস্থাপনা দেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ-এর বহিঃনোঙর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের সার্বক্ষণিক নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতের ফলে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরকে নিরাপদ বন্দরে পরিণত করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রেস রিলিজে বলা হয়, বহিঃনোঙরে ছিঁচকে চুরি, চোরাচালান এবং জাহাজ থেকে অবৈধভাবে মালামাল ক্রয়-বিক্রয় বন্ধে উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, ড্রোন ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে চোরাচালান ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

গত দেড় বছরে নিয়মিত টহলের বাইরে ১ হাজার ৩২০টির বেশি অভিযান পরিচালনা করেছে কোস্ট গার্ড। এছাড়া ৪৭টি বাণিজ্যিক জাহাজে বোর্ডিং করে জলদস্যুতা ও চুরি প্রতিরোধে সহায়তা করা হয়েছে। চুরি হওয়া ৫টি জাহাজের মালামাল উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট জাহাজে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
কোস্ট গার্ডের কার্যকর পদক্ষেপের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন সময়ে ২৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ বাহিনীটিকে “লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন” প্রদান করেছে। এতে স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করা হয়।

প্রেস রিলিজে আরও জানানো হয়, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট ৪ হাজার ২৭৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৮ দশমিক ১৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে, যা ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

এছাড়া বন্দরটি ৫ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা আয় করে রেকর্ড রাজস্ব অর্জন করেছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ReCAAP ও IMO-এর প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। ReCAAP-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ও আশপাশের এলাকায় ১৩টি জলদস্যুতা ও চুরির ঘটনা ঘটলেও ২০২৫ সালে তা কমে ৪টিতে নেমে এসেছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত