বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

কীর্তিতে অমর তেকোটা গ্রামের প্রয়াত জগদীশ প্রসাদ চৌধুরী

বিশেষ প্রতিনিধি: শ্রদ্ধা-স্মরণ ও ইতিহাসের কিংবদন্তি’র জীবন চরিত্র বিশ্লেষণে জ্ঞানপিপাসু প্রজন্মের জন্য শ্রদ্ধাভাজণেষু সাথী প্রিয় বড়ুয়ার ফেইসবুক ওয়াল থেকে হুবহু তুলে ধরা হলো:

তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পুষ্পিত শ্রদ্ধাঞ্জলী। কীর্তিতে অমর এই মহীয়সী মানবের জীবন, যাঁর কীর্তি ছোট পরিসরের বণর্নায় শেষ করা যাবে না।কিছু কিছু মানবের জন্ম হয় শুধু মাত্র অপরের কল্যাণ সাধনের জন্য।সেরকম এক মহা পুরুষ তেকোটা গ্রামের শ্রদ্ধেয় জগদীস প্রসাদ চৌধুরী। যিনি রাজনীতি, সমাজ, গ্রাম উন্নয়ন সবগুলোকে একই বৃত্তের মধ্যে নিয়ে এসে এক আলোক শিখা প্রজ্বলিত করেছেন।

যাদের জন্মে ধন্য এই তেকোটা,যাদের পদচারনায় মুখরিত এই তেকোটা, যাদের গৌরবে গৌরবান্বিত এই তেকোটা তাদেরই একজন এই জগদীশ প্রসাদ চৌধুরী।তেকোটা মুকুট নাইটে সর্বপ্রথম উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি জগদীশ প্রসাদ চৌদুরীর বড় ভাই মুনিন্দ্র প্রসাদ চৌধুরী যিনি কলকাতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিজ্ঞ আইনজীবি এবং দ্বিতীয় হচ্ছেন জগদীশ প্রসাদ চৌদুরী।

জগদীশ প্রসাদ চৌদুরী স্থানীয় পরিমন্ডল অতিক্রম করে তাঁর কর্মকৃতিত্বের গুনে সমগ্র বৌদ্ধ সমাজের মধ্যেই পরিব্যাপ্ত হয়েছে।

জগদিশ প্রসাদ চৌধুরী ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক।তাঁর আদর্শকে ধারন করে ধলঘাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠায় রেখেছেন অনবদ্য ভুমিকা।বহু প্রতিষ্ঠান তার হাত ধরে জন্মলাভ করেছে এবং মৃত্যু অবধি পিতার ন্যায় সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেছেন।উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন জগদিশ প্রসাদ চৌধুরী তাই এলাকাবাসীর মধ্যে শিক্ষার মর্শাল প্রজ্বলন করেছে তেকোটা চপলাবালা প্রাথমিক বিদ্যালয় (বর্তমানে তেকোটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে ও বাংলাদেশ বৌদ্ধ সেবাসদন পালি কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।অনাথ শিশুদের স্থায়ী আবাসন সুবিধার জন্য প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ সেবাসদন অনাথ আশ্রম।

১৯৬৫ সাল থেকে ২০০৮ সাল পযর্ন্ত বালাদেশী বৌদ্ধদের তীর্থভূমি বৌদ্ধ সেবাসদন উন্নয়ন প্রকল্পের মহাসচিব ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন ও আমৃত্যু কান্ডারীর ভূমিকায় ছিলেন জগদীশ প্রসাদ চৌধুরী। বাংলাদেশ বৌদ্ধ সেবাসদন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তেকোটার সাথে গৈড়লা হয়ে নাইখানের সাথে একমাত্র সংযোগ সেতু গার্ডার ব্রীজ নির্মাণেও রেখেছেন অনবদ্য ভূমিকা।বিহার নির্মাণে করেছেন ভূমি দান।

২০১৭ সালের জাতির শোকের মাসে এই মহান ব্যাক্তি সবাইকে শোক সাগরে ভাসিয়ে ৯ আগস্ট জাগতিক সুখ উপেক্ষা করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।আমরা তেকোটাবাসী হারিয়েছি আমাদের এক অভিভাবকে, সেবাসদন হারিয়েছে তার যোগ্য সারথিকে বৌদ্ধ সমাজ হারিয়েছে একজন সফলতম ব্যাক্তিকে।

বংশ পরম্পরায় তারই ঔরষজাত সন্তান সরিৎ চৌধুরী সাজু পিতার আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে ববঙ্গবন্ধুর চেতনাকে বুকে ধারন করে ধলঘাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের একজন কর্মী হিসেবে ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব সহ স্থানীয় ও জাতীয় পযার্য়ে বিভিন্ন সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যুবসমাজের একজন আইডল হিসেবে ভূয়সি প্রসংশা অর্জন করেছে।

পরিশেষে বলতে চাই জগদীশ প্রসাদ চৌধুরীর মতো ব্যাক্তি সমাজে বিরল। যুগে যুগে কালে কালে এই রকম ব্যাক্তি জন্মগ্রহন করেন কদাচিৎ সময়ে।

শারীরিক মৃত্যু হয়ত এই মহান ব্যাক্তিকে আমাদের কাছে অদৃশ্য করে দিয়েছে কিন্তু তার সৃষ্ট অমর কীর্তির মাধ্যমে তিনি বেঁচে থাকবেন আমাদের মাঝে।বিনম্র চিত্তে অবনত মস্তকে এই মহান ব্যাক্তিকে শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত