বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

শ্রেণিকক্ষ দখল করে রাত্রীযাপন সাবেক সভাপতির, মদ্যপানের ভিডিও ভাইরাল

ফটিকছড়ি প্রতিবেদক :

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির হাইদচকিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ দখল করে রাত্রীযাপনের অভিযোগ উঠেছে সাবেক সভাপতি চৌধুরী রাশেদুল আবেদীন (রাশেদ চৌধুরীর) বিরুদ্ধে। তিনি সভাপতি থাকার সুবাদে এবং সাবেক উত্তর জেলা আ. লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরীর ভাতিজা পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে প্রায় দুই বছর ধরে স্কুলের চারতলা ভবনের একটি কক্ষ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করে আসছেন। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে এবং পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অভিভাবকরা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে শ্রেণিকক্ষে বসে সেই উলঙ্গ অবস্থায় এক নারীর সাথে ভিডিও কলে কথা বলছে এবং মদ্যপান করছে এমন একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

স্থানীয় জানায়, ওই কক্ষে তিনি বিছানা পেতে রাত কাটান এবং দিনের বেলায় ব্যক্তিগত জিনিসপত্র রাখেন। সেখানে বসেই তিনি মদ্যপান করতেন যা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য চরম অপমানজনক আচরণ। বিষয়টি নিয়ে স্কুলের শিক্ষক ও স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।

গতকাল বিকেলে হাইদচকিয়া বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে প্রবেশ করে হঠাৎ রাশেদ চৌধুরী ক্লাস চলাকালিন অবস্থায় শ্রেণীকক্ষে ঢুকে জৈষ্ঠ্য শিক্ষক রতন কান্তি চৌধুরীকে বারান্দা থেকে টানাহেঁচড়া করে অফিস কক্ষে নিয়ে যায়। এসময় তাকে ইট দিয়ে আঘাত করতে থাকে। প্রধান শিক্ষক সুনব বড়ুয়া বাঁধা দিতে গেলে তাকেও উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন তিনি। পরে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় অভিযুক্তকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনার পরপর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ দখলে বিষয়টি সামনে আসে।

গত মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে বিদ্যালয়ের চারতলার একটি কক্ষ দখল করে রাত্রীযাপনের জন্য বিছানা পেতে রাখলেও বুধবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, নিজের দায় এড়াতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক (ভারপ্রাপ্ত) লাকী বড়ুয়া দপ্তরীকে দিয়ে সেই কক্ষের তালা ভেঙ্গে বিছানা পত্রসহ জিনিসপত্র অন্যত্র সরিয়ে নেয় ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, ‘স্কুলে অতীতে সভাপতির দায়িত্বে থাকার কারণে তিনি নিজেকে প্রভাবশালী মনে করেন। আমরা কিছু বললে উল্টো আমাদের ওপর চিৎকার-চেঁচামেচি করেন।”

শিক্ষার্থীরা জানান, ‘রাশেদ চৌধুরী মাঝেমধ্যে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষকদের সাথে উঁচু স্বরে কথা বলেন। হঠাৎ করে তিনি উপরের কক্ষ থেকে নেমে এসে ক্লাসে চিল্লাচিল্লি শুরু করেন। এতে আমরা ভয় পাই এবং মনোযোগ নষ্ট হয়। যা পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করে।”
এ ঘটনায় অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন সাবেক সভাপতির এমন আচরণে স্কুলের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুদ্দিন সুমন বলেন, “এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। স্কুল পরিচালনার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের উচিত অবিলম্বে ওই কক্ষ শিক্ষাম‚লক কাজে ফিরিয়ে আনা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকান্ড বন্ধ করা।”

এদিকে অভিযুক্ত রাশেদ চৌধুরী গতকাল মঙ্গলবার হাইদচকিয়া বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে মারধর করার মামলায় জেলহাজতে থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষিক (ভারপ্রাপ্ত) লাকী বড়ুয়া বলেন, ‘তিনি স্কুলের সাবেক সভাপতি থাকাকালীন থেকে কক্ষটি নিজের দখলে রেখেছেন। মাঝে মধ্যে শ্রেণী কক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষকদের সাথে চেঁচামেচি করতেন। তিনি স্থানীয় ও প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে বিষয়টি আমরা কাউকে জানাতে পারিনি। আমি আজকে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। এ ঘটনায় তিনি দায় এড়াতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। উল্টো তার পক্ষে সব কিছু দেখে-শুনে রাখা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মুরাদ চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি। ইউএনও মহোদয়ের সাথে পরামর্শ করে দ্রুত সুরাহা করা হবে ।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘এটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গাফিলতির ফল। কোনো প্রতিষ্ঠাতা বা সভাপতির স্কুল কক্ষ ব্যবহারের অধিকার নেই। প্রকৃত অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত