বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

আল্লামা সাঈদীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন সাবেক এমপি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট)। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলসহ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ জমিয়তে মুফাসসিরিন, বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরিন, বাংলাদেশ মুফাসসির পরিষদ, বাংলাদেশ ছাত্র কল্যাণ পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের উদ্যোগে অনুরূপ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

কারাবন্দি অবস্থায় ২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট দুপুরে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে অসুস্থতার কথা বলে কারা কর্তৃপক্ষ পরিবারকে না জানিয়ে আল্লামা সাঈদীকে শহিদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। শারীরিক জটিলতা বিবেচনা করে আল্লামা সাঈদীকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। ওই দিনই কারা কর্তৃপক্ষ তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য নিয়ে আসেন। এ সময় তিনি কারারক্ষীদের কাঁদে ভর দিয়ে এ্যাম্বুলেন্স থেকে নামেন এবং হাত উঁচু করে জাতীর উদ্দেশ্যে মিষ্টি মধুর হাসি দিয়ে সালাম দেন। তবে পরিবারের সাথে তাকে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। ১৪ আগস্ট রাত ৮টা ৪০ মিনিটে পিজি হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডাঃ এস এম মোস্তফা জামান ষড়যন্ত্র করে তাঁকে হত্যা করেছে বলে ওই সময় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী একজন বিশ্বনন্দিত বাংলাদেশী ইসলামিক বক্তা এবং সফল রাজনীতিবিদ ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য। যিনি ১২ জুন ১৯৯৬ থেকে ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ পর্যন্ত একজন সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সংসদীয় দলের উপনেতা এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪০ সালের ২ ফেরুয়ারি পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী গ্রামে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মাওলানা ইউসুফ সাঈদী যিনি একজন স্বনামধন্য ইসলামী পন্ডিত এবং ফুরফুরা দরবার শরীফের খলিফা ছিলেন। তার মায়ের নাম গুলনাহার বেগম।

১৯৬৭ সাল থেকে তিনি “দায়িইলাল্লাহ” হিসেবে আত্মনিয়োগ করেন। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী পৃথিবীর অর্ধশতেরও বেশি দেশের সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক আমন্ত্রিত হয়ে ইসলামের সুমহান আদর্শ মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন। পবিত্র কাবা শরীফের সম্মানিত ইমাম তার মাহফিলে দু’বার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ১৯৭৫ সালের ২৯ জুলাই কোন মামলা ছাড়াই শেখ মুজিবুর রহমানের রোষানলের শিকার হয়ে প্রথম কারাবরণ করেন। দ্বিতীয়বার তারই কন্যা শেখ হাসিনার রোষানলের শিকার হয়ে ২০১০ সালের ২৮ জুন গ্রেফতার হন। এরপর কথিত যুদ্ধাপরাধের মামলায় আদালত তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাজপথে আন্দোলনের সময় দেড় শতাধিক মানুষ শহিদ হন। বিশ্বের দরবারে ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এই মহান দাঈ আজীবন সংগ্রাম করেছেন। শত অত্যাচার ও নির্যাতনেও তিনি এই আদর্শ থেকে ও এই ইসলামী আন্দোলন থেকে সরে আসেননি।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত