আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ। আগামী শনিবার (১৬ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর গুপ্তখালস্থ পদ্মা অয়েল কোম্পানির ডেসপাস টার্মিনালে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। এ লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উদ্বোধনের পর পাইপলাইনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা ডিপোতে তেল পাঠানো হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) উপ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) শ্যামল পাল জানান, পাইপলাইনটির কাজ শেষ হওয়ার পর গত জুন মাস থেকে পরীক্ষামূলক তেল পরিবহন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষায় যেসব ত্রুটি ধরা পড়েছিল তা সমাধান করা হয়েছে। শনিবার দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপোতে তেল পাঠানো হবে। এটি হবে পরিবেশবান্ধব, ঝুঁকিমুক্ত, ব্যয় ও সময় সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা।
বিপিসি সূত্র জানায়, বছরে ৫০ লাখ টন জ্বালানি তেল সরবরাহের সক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রকল্প জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, পরিবহন ব্যয় কমাবে এবং নৌপথে তেল পরিবহনের বিপুল খরচ সাশ্রয় করবে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ২৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পাইপলাইনের মধ্যে ১৬ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ ২৪১ কিলোমিটার পতেঙ্গা থেকে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল পর্যন্ত এবং ১০ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ ৮.২৯ কিলোমিটার ফতুল্লা ডিপো পর্যন্ত বিস্তৃত। পথে রয়েছে ২২টি নদী ও খাল, যার নিচ দিয়ে পাইপলাইন পাতা হয়েছে। সিস্টেমে মোট ৯টি পাম্পিং স্টেশন রয়েছে।
২০১৮ সালের অক্টোবরে অনুমোদন পাওয়া এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে। দুই দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা। বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।
বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল পর্যন্ত অয়েল ট্যাঙ্কারে তেল পরিবহনে সময় লাগে অন্তত ২৪ ঘণ্টা এবং বছরে বিপিসির খরচ হয় প্রায় ৩২৬ কোটি টাকা। পাইপলাইন চালু হলে মাত্র ৪ ঘণ্টায় তেল পৌঁছাবে এবং ব্যয় নেমে আসবে ৯০ কোটি টাকায়—ফলে বছরে সাশ্রয় হবে প্রায় ২২৬ কোটি টাকা। একই সঙ্গে সিস্টেম লস এবং পরিবেশ দূষণও রোধ হবে।

পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানি পিএলসি’র উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড অপারেশন্স) জামান নাহীদ রায়হান বলেন, “পাইপলাইনে তেল পরিবহনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অয়েল ট্যাঙ্কারের যুগ পেরিয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করল। এতে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে।”

