বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

অস্ত্র, গুলি, ইয়াবা ও বিপুল চোরাই মালামাল উদ্ধার

লোহাগাড়ায় ১০ মাসে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৭২২ জন

লোহাগাড়া প্রতিনিধি :

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় গত ১০ মাসে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে ৭২২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র, চোরাই মালামাল, নগদ টাকা ও জাল নোট। পুলিশের এমন সাফল্যে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হয়েছে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত পুলিশের নিয়মিত তৎপরতায় নানা অপরাধে এসব গ্রেপ্তার সংঘটিত হয়। এর মধ্যে নিয়মিত মামলায় মাদক ব্যবসায়ীসহ ৫৫৯ জনকে, পরোয়ানাভুক্ত সিআর মামলায় ১৪৩ জনকে, জিআর মামলায় ৩৯ জনকে, পরোয়ানাভুক্ত সিআর সাজাপ্রাপ্ত ১৩ জনকে, কার্যবিধি আইনের ১৫১ ধারায় ১১৯ জনকে, জিআর সাজাপ্রাপ্ত ৭ জনকে এবং মাদক সেবন মামলায় ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুধু গ্রেপ্তারই নয়, অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি। এসবের মধ্যে রয়েছে—একটি পিস্তল, দেশীয় তৈরি ২৭টি একনলা বন্দুক, ২টি কাটা রাইফেল, ১টি গ্যাসগান, ১টি এয়ারগান, ৫০ রাউন্ড কার্তুজ, রাইফেলের ২০ রাউন্ড গুলি, পিস্তলের ৪ রাউন্ড গুলি এবং গ্যাসগানের ১৭টি সেল। এছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে ১৬টি রামদা, ৩টি কিরিচ ও ৮টি ছোরা। অস্ত্র উদ্ধারের এ সাফল্য সন্ত্রাস দমনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

মাদকবিরোধী অভিযানেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে পুলিশ। গত ৯ মাসে ১৫৩টি মাদক মামলায় ২১৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১১৭ কেজি গাঁজা, ৪৩৫ লিটার ৭৫০ গ্রাম চোলাই মদ এবং ৬ বোতল বিদেশি মদ। মাদকের এ বিপুল পরিমাণ উদ্ধার পুরো অঞ্চলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশের দাবি, এসব অভিযান এলাকায় মাদক কারবারীদের চক্র ভেঙে দিতে সহায়তা করেছে।

এছাড়া অভিযান চলাকালে উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন চোরাই মালামাল। এর মধ্যে রয়েছে—১৪২টি হারানো মোবাইল ফোন, ১৪টি চোরাই গরু, ১১ ড্রাম তেল, ১ কয়েল তামার তার, ৭টি চোরাই সিএনজি অটোরিকশা, ৫টি মোটরসাইকেল, ১টি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ১০টি চোরাই ব্যাটারি, ২০০ কেজি রেল লাইনের লোহার বিট, ৪ ভরি ৭ পয়েন্ট স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং ১৫ হাজার টাকার জাল নোট। এসব উদ্ধার অভিযান কেবল অপরাধ দমনেই নয়, জনগণের হারানো সম্পদ ফেরত দিতে বড় অবদান রাখছে বলে জানা গেছে।

অভিযান প্রসঙ্গে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, “মাদক, সন্ত্রাস, চুরি ও ডাকাতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। গত ১০ মাসে ধারাবাহিকভাবে সফল অভিযান চালিয়ে ৭২২ জন আসামি গ্রেপ্তার করেছি এবং বিপুল পরিমাণ মাদক, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের এসব অভিযান এলাকাবাসীর সহযোগিতা ও পুলিশের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সম্ভব হয়েছে। মানুষ এখন পুলিশের পাশে দাঁড়াচ্ছে। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের অভিযান চলমান থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।”

স্থানীয়রা জানান, পুলিশের এই তৎপরতায় এলাকায় অপরাধ অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তবে তারা পুলিশের কাছে আশা করছে, এই অভিযান যেন আরও শক্তিশালী হয় এবং নিয়মিতভাবে চলতে থাকে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত