চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলার ঘটনায় রোববার (৩১আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরীক্ষার নতুন তারিখ জানানো হবে।
শনিবার গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষে সহকারী প্রক্টরসহ প্রায় ৬০ জন আহত হন। আহতদের অনেকের মাথায় ইটপাটকেলের আঘাত লেগেছে, কেউ কেউ দায়ের কোপেও গুরুতর জখম হয়েছেন। বর্তমানে তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দর্শন বিভাগের এক ছাত্রী রাত সাড়ে ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে গেলে দারোয়ানের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। অভিযোগ রয়েছে, এক পর্যায়ে দারোয়ান ওই ছাত্রীকে মারধর করেন। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হয়ে দারোয়ানকে ধরতে গেলে স্থানীয়রা হামলা চালায়। মুহূর্তেই দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। ভোর তিনটার দিকে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি শান্ত করতে সক্ষম হয়।
ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, “আমি রাত ১২টার মধ্যে এসে পৌঁছাই। দারোয়ান দরজা খুলতে চাইছিল না। জোরে ডাক দিলে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে হঠাৎ আমাকে চড় মারে। ফেলে দিয়ে লাথিও মারে। তখন আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আরও হামলার শিকার হই।”
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্থানীয়দের সঙ্গে বিভিন্ন ঘটনায় বারবার উত্তেজনা তৈরি হলেও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেয় নি। এর ফলে একের পর এক সংঘর্ষ ঘটছে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে। গতরাতেও অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন


