বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

চাকসু নির্বাচনে প্রথম ইশতেহার ঘোষণা করল বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্ট সমর্থিত ‘রেভ্যুলেশন ফর স্টেট অব হিউম্যানিটি’ প্যানেল

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকস) নির্বাচনে প্রথম ইশতেহার ঘোষণা করেছে শাখা বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্ট সমর্থিত ‘রেভ্যুলেশন ফর স্টেট অব হিউম্যানিটি’ প্যানেল। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় চাকসু ভবনের সামনে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন প্যানেলটির ভিপি প্রার্থী কেফায়েত উল্লাহ ও জিএস প্রার্থী কাজী মো. শাহারিয়ার উল্যাহ।

ইশতেহারে প্যানেলটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলীয় আধিপত্য, জবরদখল ও সংঘাতমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার। এ লক্ষ্যে চাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা, সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন চালু করা এবং প্রশাসনিক ও ছাত্রপ্রতিনিধিদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছে।

তারা আরও জানিয়েছে, মুক্ত জ্ঞানচর্চা ও স্বাধীন জীবন বিকাশের শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হবে। এজন্য দক্ষ ও প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা বাহিনী গঠন করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি সহায়তা প্রদানে ইমারজেন্সি সিকিউরিটি সেল গঠন করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষকমণ্ডলী ও ছাত্রসংসদকে সবার প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে। চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদের শতভাগ ম্যান্ডেট কার্যকর করার লক্ষ্যে সভাপতি পদে ছাত্রপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রথা চালু করতে আইনগত উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানানো হয়।

ইশতেহারে বলা হয়, ধর্মের নামে উগ্রবাদী সন্ত্রাসী চক্রের নিপীড়ন থেকে ছাত্রীদের রক্ষা এবং সবার মতপ্রকাশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। আবাসন সংকট নিরসনে প্রাথমিকভাবে হলগুলোতে ডাবল-ডেকার সিট ব্যবহার, এক্সটেনশন সংস্কার, স্টাফ কোয়ার্টার ও পরিত্যক্ত ভবন সংস্কার, জোবরা এলাকার ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদে শতভাগ আবাসনের জন্য বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

শিক্ষাক্ষেত্রে টিচার্স এফিশিয়েন্সি রেটিং বাস্তবায়ন, বিজ্ঞানভিত্তিক ও প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষার ব্যবস্থা, সেশনজট নিরসনে একাডেমিক ক্যালেন্ডার বাধ্যতামূলক করা এবং গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির অঙ্গীকার রয়েছে। পরিবহন সংকট নিরসনে শাটল ট্রেনের ইঞ্জিন পরিবর্তন, দ্রুতযান বাস সার্ভিস, স্পেশাল বাস সার্ভিস এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ই-কার্ট, বাইসাইকেল ও চক্রাকার বাস চালুর প্রতিশ্রুতিও প্যানেলের ইশতেহারে স্থান পায়।

খাদ্য ব্যবস্থাপনায় মিল সিস্টেম বাতিল করে ডাইনিং-ক্যান্টিন চালু করা, ভর্তুকি বৃদ্ধি, পুষ্টিবিদ দ্বারা খাদ্যের মান নিশ্চিত করা এবং মনিটরিং সেল গঠনের কথা বলা হয়। চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন, মানসিক স্বাস্থ্য ইউনিট, কাউন্সেলিং সেবা, অ্যাম্বুলেন্স সংখ্যা বৃদ্ধি, মানসম্পন্ন ওষুধ সরবরাহ এবং মেয়েদের জন্য স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।

প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেইজ তৈরি, একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনলাইনে রূপান্তর, ব্যাংকিং কার্যক্রম অনলাইনকরণ, ভর্তির সাথে স্টুডেন্ট মেইল প্রদান এবং ওয়েবসাইট শিক্ষার্থীবান্ধব করার উদ্যোগের কথা বলা হয়।

আর্থিক স্বচ্ছতায় সব ধরনের পরীক্ষার ফি বাতিল, ছাত্র সংসদ তহবিলের দুই-তৃতীয়াংশ গরিব শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় এবং অযৌক্তিক কোটা ও ফি বাতিলের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। পাহাড়ি ও সমতলের সব শিক্ষার্থীর অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক সাম্যের ক্যাম্পাস গড়ে তোলার কথা বলা হয়।

এছাড়া, অভিযোগ-পরামর্শ শেয়ার করার জন্য কমপ্লেইন সেল গঠন, মাসে এক থেকে দুইবার শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন, গুপ্ত ও পেশিশক্তির রাজনীতি বন্ধ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রিসাইকেল সিস্টেম চালু, পরিবেশ রক্ষায় প্রাণীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলা এবং লাইব্রেরীতে বই ও বিদেশি জার্নাল সরবরাহ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সবশেষে, পরবর্তী চাকসু নির্বাচনে অনলাইন ভোটিং সিস্টেম চালুর অঙ্গীকার করা হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের আইডিতে লগইন করে ভোট দিতে পারে। এতে স্বল্প ব্যয়ে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত হবে এবং একাডেমিক কার্যক্রমও সচল থাকবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত