মধ্যরাত পেরিয়ে রাত দুইটা। চারপাশ নিস্তব্ধ। মিরসরাইয়ের ৯নং সদর ইউনিয়নের জামালের দোকান এলাকার নির্জন অংশে হঠাৎ বিকল হয়ে থেমে যায় চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস।
সেখানে প্রায় ৪০-৪৫ জন নারী-পুরুষ, শিশু ও বয়স্ক যাত্রী ছিলেন। অন্ধকারে নির্জন রাস্তায় পূর্বে একাধিক ডাকাতির ঘটনাও ঘটেছে এই এলাকায়। ফলে আতঙ্কে যাত্রীরা রাস্তার পাশে একটি বন্ধ মসজিদের সিঁড়িতে আশ্রয় নিয়ে দোয়া দরুদ পড়তে থাকেন।
ঠিক সেই সময় রাতের টহল তদারকির অংশ হিসেবে সেখানে পৌঁছান মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার।
পরিস্থিতি দেখে তিনি প্রথমেই যাত্রীদের আতঙ্কমুক্ত করেন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। পরে ফোনে স্থানীয় একজন মেকানিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ ঘটনাস্থলে আনান। নিজের উপস্থিতিতে প্রায় আধা ঘণ্টার প্রচেষ্টায় গাড়িটি সচল হয়।
গাড়ি ঠিক হওয়ার পর স্বস্তি ফিরে আসে যাত্রীদের মুখে। কেউ আনন্দে চোখের পানি ফেলেন, কেউবা হাত তুলে দোয়া করেন ওসি আতিকুর রহমান মজুমদারের জন্য।
এ বিষয়ে ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার তাঁর ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে লিখেছেন—“মাসের ত্রিশ দিনের মধ্যে প্রায় প্রতিরাতেই রাস্তায় থাকি। অফিসার-ফোর্সের ডিউটি তদারকির পাশাপাশি তাদের চাঙ্গা রাখতে যেকোনো অপারেশনে সামনে থেকে কাজ করি। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কিছু মানবিক কাজও হয়ে যায় মহান আল্লাহর রহমতে।”
তিনি আরও বলেন,“এই ধরণের ঘটনা মাসে অন্তত দশটা ঘটে। আমি চেষ্টা করি মানুষের পাশে থাকতে। পুলিশের কাজই হচ্ছে মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো। আজ ভিন্ন কারণে ঘটনাটি শেয়ার করলাম। এসব মানুষের দোয়ার বরকতেই মহান আল্লাহ আমাদের নানান দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করেন।”
ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, “রাত দুটোর সময় মহাসড়কে কোনো গাড়ি সিগন্যাল দিলেও খুব কমই কেউ থামে। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়। আমরা ড্রাইভার-হেলপার ও গাড়ির বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে।”
এমন মানবিক উদ্যোগে মিরসরাইসহ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
স্থানীয়রা বলছেন— “পুলিশ মানেই ভয় নয়, এখন নিরাপত্তা ও আশার নাম ওসি আতিক।”


