বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

বন্দর অভিমুখে শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের বাধাঁ, গণঅনশনের ডাক

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মিছিল-সমাবেশের ওপর পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপক্ষো করে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বন্দর অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। তবে পুলিশের বাধায় তারা বন্দর ভবন পর্যন্ত যেতে পারেনি। পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা পর আগামী ১ নভেম্বর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে গণঅনশনের ডাক দেন স্কপ নেতারা।

বুধবার (২২ অক্টোবর) নগরের আগ্রাবাদ বাদামতল এলাকা থেকে মিছিল বের করে স্কপ। মিছিলটি বন্দরের ১ নম্বর গেইট বারিক বিল্ডিংয়ের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। শ্রমিকেরা হট্টগোল শুরু করলে একপর্যায়ে শ্রমিক নেতারা তাাদের আশ্বস্ত করে কর্মসূচি সেখানেই সমাপ্ত ঘোষণা করেন। এর আগে দুপুরে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আগ্রাবাদের বাদামতলী মোড়ে জমায়েত হন শ্রমিকরা। সেখানে সমাবেশের আয়োজন করে স্কপের চট্টগ্রাম জেলা শাখা। এ সময় তারা ‘চট্টগ্রাম বন্দর-বিদেশিদের দেব না, আমার মাটি আমার মা-বিদেশিদের হবে না’ এমন নানা স্লোগানে দেন।

এ সময় শ্রমিকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তপন দত্ত, চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন, বিএলএফের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হক প্রমুখ।

সমাবেশে ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তপন দত্ত বলেন, ‘বন্দর কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, বন্দর ১৯ কোটি মানুষের। শ্রমিকদের পেটে লাথি মেরে বিদেশিদের বন্দর দেওয়া যাবে না। বন্দরে শ্রমিকদের ঢুকতে না দিয়ে, ৩০ টাকার গেট পাস ২০৩ টাকা করে বিদেশিদের বন্দর দিয়ে দেবেন, তা হবে না। পত্রিকায় দেখলাম, কর্মকর্তাদের বেতন দেড়-দুই লাখ টাকা হচ্ছে আর এদিকে শ্রমিকদের পেটে লাথি মারা হচ্ছে।’

অনশনের ডাক দিয়ে তপন দত্ত বলেন, ‘আগামী ১ নভেম্বর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে শত শত শ্রমিক–কর্মচারী সকাল ১০টায় অনশনে বসব, আপনারা শ্রমিক-কর্মচারীরা সবাই সেখানে আসবেন, বন্দরে খরচ বাড়লে ক্রেতাদের ওপরও প্রভাব পড়বে, তাই সাধারণ মানুষকেও অনুরোধ করছি এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে।’

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে একতরফাভাবে নেয়া সিদ্ধান্তকে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বহাল রেখেছে, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। দেশের কৌশলগত সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার এই ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। শ্রমিকদের বেকার করে দেওয়ার, শ্রমিকদের পেটে লাথি মারার কোনো ষড়যন্ত্র আমরা সফল হতে দেব না, যদি শ্রমিকদের দাবি মানা না হয়, তাহলে আমরা সভা-সমাবেশ, হরতাল সব কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’

নগরীর ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আজাদ বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর ভবনসহ আশপাশের এলাকায় একমাসের জন্য মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তাই ডবলমুরিং থানার শেষ সীমানা পর্যন্ত তাদের মিছিল করতে দেওয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজের জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১১ অক্টোবর থেকে পরবর্তী ৩০ দিন চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন বারেক বিল্ডিং মোড়, নিমতলা মোড়, ৩ নস্বর জেটি গেট, কাস্টমস মোড়, সল্টগোলা ক্রসিংসহ বন্দর এলাকায় যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, শ্রমিক বা সামাজিক সংগঠনের মিছিল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, পথসভা নিষিদ্ধ করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত