বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

সংবাদ সম্মেলনে দাবি এনসিপির

চট্টগ্রামে নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কার্যালয়ে জিনিসপত্র ও ছবি ভাঙচুরের বিষয়ে বাখ্যা দিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)। বুধবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় নগরের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন বিপ্লব উদ্যানে চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। তারা দাবি করেছেন, দোস্ত বিল্ডিং-এর ওই কার্যালয় থেকে গোপন বৈঠক করে চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগসহ তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সমন্বয়কারী রাফসান জানির উপস্থাপনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন- যুগ্ম সমন্বয়কারী এরফানুল হক। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন যুগ্ম সমন্বয়কারী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগর এর সাবেক আহবায়ক আরিফ মঈনুদ্দিন।
লিখিত বক্তব্যে এরফানুল হক বলেন, ‘দেশের এক ক্রান্তিলগ্নে নিজেদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। আপনারা অবগত আছেন, ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রবিরোধী সংগঠন আওয়ামী লীগের সকল ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হলেও তাদের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড থেমে নেই। দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে তাদের বেশ কিছু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিদিনই বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা জানতে পারি।

এই সকল কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে তারা চট্টগ্রামেও বিভিন্ন জ্বালাও-পোড়াও ও অগ্নিসংযোগের সাথে যুক্ত তা আপনারা (সাংবাদিকরা) জানেন। আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি চট্টগ্রামের শান্তিকামী মানুষদের সাথে নিয়ে তাদের এসব নীল নকশা নস্যাৎ করতে সক্ষম হয়েছি।

গত ১৮ই অক্টোবর শেখ রাসেলের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে একদল সন্ত্রাসী চট্টগ্রামের দোস্ত বিল্ডিংয়ে একত্রিত হয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোডে কার্যক্রম সংগঠিত করার চেষ্টা করে, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় আমরা তা প্রতিহত করতে সক্ষম হই।
এই ঘটনা আমাদের নাড়া দিয়েছে। কারণ, আমরা দেখেছি ফ্যাসিবাদী দলের কার্যালয়গুলো ৫ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকারীরা বন্ধ করে দিলেও তারা দোস্ত বিল্ডিংয়ে এখনো অবৈধভাবে অফিস চালাচ্ছে। বিল্ডিং কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১২ থেকে ১৫ বছর ধরে তারা বিনা ভাড়ায় দখল করে সেখানে অবস্থান করছে ও অপকর্ম চালাচ্ছে। এ ভবনে গোপন বৈঠক থেকেই চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দিচ্ছি, আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী কোনো সংগঠনের উত্থান ঘটতে দেব না।

শহীদ মিনারে আমাদের প্রিয় নেতা নাহিদ ইসলামের ঘোষিত ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’-এর যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে আমরা গণঅভ্যুত্থানের শক্তি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ আছি এবং থাকব।’

এর আগে মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর নিউমার্কেটের দোস্ত বিল্ডিংয়ে অবস্থিত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কার্যালয়টিতে জিনিসপত্র ও ছবি ভাঙচুর করা হয়।

এ প্রসঙ্গে এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগর এর সাবেক আহবায়ক আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘মঙ্গলবারের পর থেকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেইজ থেকে আমাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। সেখানে আমাদেরকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলছে তারা আসবে। আমরাও চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি। এনসিপির কোতোয়ালী শাখার লোকজন চেয়ার-টেবিল নিয়ে এখন আওয়ামী লীগের ওই অফিসে বসছে। পাহাড়া দিচ্ছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ আসলেই যাতে প্রতিহত করা যায়।’

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত