কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবসের অনুষ্ঠান ঘিরে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ঈদগাঁও উপজেলার তিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের উপেক্ষা করা হয়, যা উপস্থিত সুধীজনদের দৃষ্টিতে ছিল “দৃষ্টিকটু”।
শনিবার (১ নভেম্বর) ঈদগাঁও উপজেলা প্রশাসন ও সমবায় অফিসের যৌথ উদ্যোগে জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিমল চাকমা, বিশেষ অতিথি ছিলেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াছমিন, ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, ও জালালাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি।
সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম।
তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো—জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই দিবসের কর্মসূচিতে ঈদগাঁও সদর, ইসলামাবাদ ও পোকখালী ইউনিয়নের তিন চেয়ারম্যানের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
অবাক করার বিষয়, ব্যানারে অতিথি হিসেবে নাম থাকা দুই চেয়ারম্যানও অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন। এতে জাতীয় দিবসের আয়োজনটি বিতর্কের মুখে পড়ে।
সুধীজনদের মন্তব্য, সমবায় আন্দোলনের মূল লক্ষ্য জনগণের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতা গড়ে তোলা। অথচ জনপ্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে আয়োজন করা হলে এই লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হয়।
এ বিষয়ে ঈদগাঁও ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম বলেন,“আমন্ত্রণপত্র দেখে মনে হয়েছে আমাকে অনুষ্ঠানে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়নি। তাই এলাকায় অন্য একটি সনাতনী ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি।”
ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম এবং পোকখালীর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান ছৈয়দ নুর জানান,“আমরা অনুষ্ঠান সম্পর্কে অবগতই ছিলাম না, তাই যাইনি।”
অন্যদিকে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম বলেন,“সব চেয়ারম্যানকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কেন তিনজন উপস্থিত ছিলেন না, তা আমার জানা নেই।”
প্রসঙ্গত, উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও জাতীয় দিবসের অন্যান্য অনুষ্ঠানেও প্রশাসন মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের সম্পৃক্ত করেন না—এমন অভিযোগও রয়েছে স্থানীয় মহলে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর এ প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


