বাংলাদেশে বর্তমানে জিলকদ মাসের ২৮ তারিখ চলছে। আগামীকালই হতে পারে জিলকদ মাসের শেষ দিন। এ সময় থেকেই শুরু হয় পবিত্র জিলহজ মাসকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ আমলের প্রস্তুতি। ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত কোরবানিকে সামনে রেখে মুসলমানদের জন্য এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সময়।
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, ১০ থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকবে, তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব। তবে কোরবানির ফজিলত ও সওয়াব কেবল সচ্ছলদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। মহান আল্লাহ ধনী-গরিব সবার জন্যই কোরবানির বরকত লাভের সুযোগ রেখেছেন।
হাদিসে এসেছে, জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকে কোরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে চুল, নখ, গোঁফ ও নাভির নিচের পশম না কাটার আমল বিশেষ ফজিলতপূর্ণ। হজরত উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন,
“তোমরা যদি জিলহজ মাসের চাঁদ দেখতে পাও আর তোমাদের কেউ কোরবানি করার ইচ্ছা করে, তবে সে যেন তার চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।” — সহিহ মুসলিম: ১৯৭৭
আলেমরা বলেন, যারা কোরবানি করতে সক্ষম নন, তারাও এই আমল পালন করতে পারেন। অর্থাৎ জিলহজের চাঁদ ওঠার পর থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত চুল, নখ ও গোঁফ না কাটলে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোরবানির পূর্ণ সওয়াব লাভের সুসংবাদ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কোরবানি করতে অক্ষম ব্যক্তি যদি ঈদের দিন চুল, নখ ও শরীরের অবাঞ্ছিত পশম পরিষ্কার করে, তবে সেটিই আল্লাহর কাছে পূর্ণ কোরবানি হিসেবে গণ্য হবে। — মুসনাদে আহমদ: ৬৫৭৫
ইসলামে নিয়ত ও ইখলাসের গুরুত্বও অত্যন্ত বেশি। হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি ভালো কাজ করার আন্তরিক ইচ্ছা রাখে কিন্তু সামর্থ্যের অভাবে তা করতে না পারে, তবুও আল্লাহ তাকে সেই আমলের সওয়াব দান করেন। এ বিষয়ে আবু কাবশা আল-আনমারি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি সৎকাজ করার নিয়ত রাখে, সে সৎকর্ম সম্পাদনকারীর সমপরিমাণ সওয়াব পেতে পারে। — ইবনে মাজাহ: ৪২২৮
তাই প্রত্যেক মুমিনের উচিত, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহকে সন্তুষ্ট রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা এবং জিলহজের আগমনের আগে থেকেই নেক আমলের প্রস্তুতি গ্রহণ করা।


