বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

টাকার বিনময়ে এনআইডি পাচ্ছে রোহিঙ্গারা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রামে রোহিঙ্গাদের টাকার বিনিময়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাইয়ে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত চক্রের দশজনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা (বন্দর ও পশ্চিম) পুলিশ। প্রতিজন রোহিঙ্গার কাছ থেকে এনআইডি কার্ড পাইয়ে দিতে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা করে নেওয়া হতো।
মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) হালিশহর হাউজিং এস্টেট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সরবরাহকৃত এনআইডি কার্ড তৈরির ফরম-২ এবং জন্মনিবন্ধন ফরম উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলো- মো. কামাল হোসেন ওরফে মোহাম্মদ (৪৫), পারভীন আক্তার (২৫), মো. নুরুল আবছার (২৮), শামসুর রহমান ওরফে শামসু মাস্টার (৬০), মো. ইয়াছিন আরাফাত (২২), নির্বাচন কমিশনের চুক্তিবদ্ধ ডাটা এন্ট্রি অপরাটের মো. নুর নবী ওরফে রাহাত (২৫), মো. মিজানুর রহমান (২৩), ফরহাদুল ইসলাম (২৮), ইমন দাশ (২০) ও মো. কামাল (৪২)। এদের মধ্যে মো. কামাল হোসেন ও পারভীন আক্তার রোহিঙ্গা।

গ্রেপ্তার শামসুর রহমান কক্সবাজারের পোকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির (বন্দর ও পশ্চিম) উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আলী হোসেন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার হালিশহর হাউজিং এস্টেট উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গাদের এনআইডি তৈরি চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সরবরাহকৃত এনআইডি কার্ড তৈরির ফরম-২ এবং জন্মনিবন্ধন ফরম উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ৪ নম্বর আসামি শামসু মাস্টার কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের সংগ্রহ করে ৩ নম্বর আসামি নুরুল আবছারের কাছে পাঠাতো। পরে নুরুল আবছার ওই রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন তৈরি করে দিতো। এই কাজে তাকে সহায়তা করতো নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ৫ জন ডাটা এন্ট্রি অপরাটের। এই চক্রটি দীর্ঘদিন বিভিন্ন প্রকার জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের এনআইডিসহ বিভিন্ন প্রকার ডকুমেন্ট তৈরি করে বিপুল অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। গ্রেপ্তার ৪ নম্বর আসামি কক্সবাজারের পোকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ছিলেন। রোহিঙ্গাদের এনআইডি কার্ড তৈরির কাজে সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তিনি চাকরিচ্যুত হন।

রোহিঙ্গাদের এনআইডি কার্ড তৈরিতে যুক্ত থাকায় তার বিরুদ্ধে ২০২১ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়ের করেছিল।

তিনি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এ চক্রের আরও অনেক সদস্য আছে যাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। এই চক্রকে আটকের জন্য ডিবি পুলিশ দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছিল। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় আমরা এই চক্রের সদস্যদের আটক করতে সক্ষম হই।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত