বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ডাকে ঢাকা অভিমুখী রোড মার্চ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক :

২০১৮ সালের নির্বাচনী ইস্তেহারে সরকারি দলের প্রতিশ্রুতি- সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, বৈষম্য বিলোপ আইন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনসহ সাত দফা দাবিতে ঢাকা অভিমুখী রোড মার্চ (চলো চলো ঢাকা চলো) কর্মসূচি শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) বেলা সোয়া তিনটায় শুরু হয়। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহবানে নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চট্টগ্রাম কেন্দ্র চত্বর থেকে দু’দিনব্যাপী এই রোড মার্চ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা।

রোড মার্চ উদ্বোধনকালে সন্তু লারমা বলেন, ‘বাংলাদেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে গত কয় বছর ধরে যে আন্দোলন চলছে তার অংশ হিসেবে রোড মার্চ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু মানুষ নানাভাবে শোষিত বঞ্চিত ও প্রতারিত। এই রোড মার্চ কর্মসূচি শুধু আনুষ্ঠিনকতা নয়। এর মধ্য দিয়ে অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হবে। সন্তু লারমা বলেন, ‘বাংলাদেশের আদিবাসী সমাজ, সংখ্যালঘু হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান সমাজ সম্মিলিতভাবে ৭ দফা দাবি আদায়ে সংগ্রাম করবে। এসব দাবির মধ্যে আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের নানা সামাজিক ও ধর্মীয় দাবির প্রতিফলন দেখি। এসব দাবি আদায়ের মধ্যে দিয়ে তাদের জীবনের শোষণ বঞ্চনার অবসানের দিকে যেতে পারব বলে আশা করি।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, রোডমার্চের মাধ্যমে সবাইকে জানিয়ে দেয়া মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ গড়বই। আমাদের শত্রু ধর্মান্ধ জামাতিরা। মির্জা ফখরুল বলেছেন পাকিস্তান ভালো ছিল। ফখরুল আপনি পাকিস্তান চলে যান। সাকা পুত্র বলেছে, প্রধানমন্ত্রীকে সাকার কবরে ক্ষমা চাইতে হবে। এটা তোমাদের দেশ না। পাকিস্তান চলে যাও। তোমার পিতা, পিতামহ পাকিস্তানি ভাবধারার। এদেশে জিয়াউর রহমান আইএসআই’র প্রতিনিধি, চর হিসেবে কাজ করছিল। সামনে নির্বাচন, সে শক্তিকে ক্ষমতায় আনতে হবে যারা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল।

রোড মার্চ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সভাপতি নিমচন্দ্র ভৌমিক, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামল কুমার পালিত।

‘ধর্মীয় রাষ্ট্র নয়, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই; ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ এই স্লোগানে রোড মার্চ শুরু হয়। ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদীবাসী জনগোষ্ঠীর স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় ২০১৮ সালের সরকারি দলের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে এই কর্মসূচির ডাক দেয় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

রোড মার্চের দাবিসমূহ হচ্ছে- সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন, দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি ও পার্বত্য ভূমি কমিশন আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন। চট্টগ্রামসহ সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে রোড মার্চের মাধ্যমে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সমর্থক ও নেতাকর্মীরা। আজ শনিবার দুপুরে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত হয়ে পদযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্মারকলিপি পেশ করার কথা রয়েছে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত