বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

রাউজানে বিএনপির দুই পক্ষের ব্যাপক সংঘর্ষে আহত অন্তত ৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৪টায় উপজেলার গহিরা ইউনিয়নের সত্তারঘাট এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে। এতে অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, এমনকি গুলাগুলির ঘটনাও ঘটে।

সংঘর্ষ হয় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার এবং কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে।

ঘটনায় গোলাম আকবর খোন্দকারের ব্যবহৃত গাড়িসহ বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয় এবং ৩-৪টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি রাউজান থানার ওসির গাড়িও হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে রাউজান থানা পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর টিম মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন—রাউজান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসিম উদ্দিন চৌধুরী, গোলাম আকবর খোন্দকারের পিএস অর্জুন কুমার নাথ, এপিএস আসিকুর রহমান, যুবদল নেতা সাজ্জাদ হোসেন, বিএনপি নেতা আওরঙ্গজেব সম্রাট, ছাত্রদল নেতা নাঈম উদ্দিন মিনহাজসহ অন্তত ৩০-৩৫ জন। তাদের কেউ গহিরার স্থানীয় ক্লিনিকে এবং গুরুতররা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি সাবের সুলতান কাজল বলেন, “৯ আগস্ট ‘জুলাই শহীদ’ স্মরণে রাউজান কলেজ মাঠে বিএনপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আমরা মঙ্গলবার মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করি। সত্তারঘাট এলাকায় গেলে গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারীরা আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০-১২ জন আহত হন।”

অন্যদিকে গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, “গত বৃহস্পতিবার সাবেক উপজেলা বিএনপি সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যু উপলক্ষে আজ তার কবর জেয়ারতে যাচ্ছিলাম। পথে সত্তারঘাট ব্রিজ এলাকায় গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা আমাদের গাড়িবহরে হামলা চালায়।”

চমেক হাসপাতালের দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মো. আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, “রাউজান সংঘর্ষে আহত হয়ে তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত