গত এপ্রিল থেকে পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে টালমাটাল পরিস্থিতির কারণে তা তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। সর্বশেষ ১ আগস্ট থেকে প্রায় ৭০টি দেশের ওপর নতুন শুল্কহার ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৪১ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
চীনের ওপর কয়েক দফায় শুল্ক বাড়িয়ে আবার কমানো হয়। কানাডার ওপর শুল্ক কয়েকবার ওঠানামা করলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়েছে। ব্রাজিলের ওপর প্রথমে ৫০ শতাংশ ঘোষণা করে পরবর্তীতে হোয়াইট হাউজের তালিকায় ১০ শতাংশ দেখানো হয়েছে। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও কার্যত দেশটির ওপর চাপ বেড়েছে।
বাংলাদেশের ওপর এপ্রিলে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে পরে তা কমিয়ে জুলাইয়ে ৩৫ শতাংশ এবং ১ আগস্ট থেকে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। তবে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর ছিল, যা এখন বাড়ছে।
হোয়াইট হাউস প্রকাশিত তালিকায় দেশভেদে নতুন শুল্কহার:
- ১০ শতাংশ: ব্রাজিল, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশ
- ১৫ শতাংশ: আফগানিস্তান, ঘানা, ইসরাইল, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্কসহ ৪০টিরও বেশি দেশ
- ১৮ শতাংশ: নিকারাগুয়া
- ১৯ শতাংশ: কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন
- ২০ শতাংশ: বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম
- ২৫ শতাংশ: ভারত, ব্রুনাই, কাজাখস্তান, মলদোভা, তিউনিসিয়া
- ৩০ শতাংশ: দক্ষিণ আফ্রিকা, লিবিয়া, আলজেরিয়া, বসনিয়া
- ৩৫ শতাংশ: ইরাক, সার্বিয়া, (কানাডা – শেষ মুহূর্তে সংযুক্ত)
- ৩৯ শতাংশ: সুইজারল্যান্ড
- ৪০ শতাংশ: লাওস, মিয়ানমার
- ৪১ শতাংশ: সিরিয়া
বিশেষ ব্যতিক্রম
মেক্সিকো থেকে ফেন্টানাইল ও গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ এবং ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা ৯০ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ শুরু হবে ৭ আগস্ট থেকে।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্য?
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব শুল্ক আরোপ শুধু বাণিজ্যিক নয়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও বটে। যেমন, ব্রাজিলের ওপর শুল্ক আরোপের পেছনে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর বিচার নিয়ে ট্রাম্পের অসন্তোষও একটি বড় কারণ।
হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, ব্রাজিল ‘মার্কিন কোম্পানির ক্ষতি করছে’ এবং ‘মার্কিন নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা হুমকির মুখে ফেলছে’।
আলোচনার সুযোগ
ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে এসব শুল্ক কমানো হতে পারে। তবে কেউ পাল্টা ব্যবস্থা নিলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কড়াকড়ি শুল্ক আরোপ করবে।
সূত্র: বিবিসি


