বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

অভিযুক্ত সাবেক মন্ত্রী-এমপিরাও

নিহত শহীদের মামলায় ২৩১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত জুতার দোকান কর্মচারী মো. শহিদুল ইসলাম শহীদ (৩৭) হত্যাকাণ্ডে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, চট্টগ্রামের একাধিক সাবেক সংসদ সদস্যসহ ২৩১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ।

গত ২৪ জুলাই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চান্দগাঁও থানা পুলিশের তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এটি চট্টগ্রামে গত বছরের আলোচিত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় পুলিশের প্রথম আনুষ্ঠানিক চার্জশিট।

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, এমপি আবু রেজা মুহাম্মদ নদভী, ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ লতিফ এবং আওয়ামী লীগ নেতা আহসানুল করিম। পুলিশের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিচয় নয়, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ও সংশ্লিষ্টতা বিবেচনায় আসামিদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

চান্দগাঁও থানার ওসি মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, “তদন্তের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে ২৩১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যুর আবেদন জানানো হয়েছে।”

চার্জশিট সূত্রে জানা গেছে, ৬ নম্বর আসামি যুবলীগ কর্মী মো. জাফরের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বহদ্দারহাট মোড়ে ছাত্র-জনতার একটি বৈষম্যবিরোধী মিছিলে পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীরা হামলা চালায়। ওই সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন শহীদ। তাকে উদ্ধার করে পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তবে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পরবর্তীতে ১৯ আগস্ট নিহত শহীদের ভাই শফিকুল ইসলাম চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যাতে ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৮ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০-৪০ জনকে আসামি করা হয়।

এদিকে, ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর চট্টগ্রামের চার সাবেক এমপি—ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ লতিফ এবং আবু রেজা নদভীসহ সাবেক সিএমপি কমিশনারকে গ্রেপ্তার করা হয়। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের সাবেক সরকারদলীয় এমপিদের বিরুদ্ধেও ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে।

বিএনপির এক শীর্ষস্থানীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ছাত্র-জনতার ওপর যারা হামলা চালিয়েছে, গুলি করেছে তাদের বড় অংশ এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এদের অনেকেই এখনও চট্টগ্রামে সক্রিয়ভাবে নানা অপকর্মে জড়িত।”

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা মুহাম্মদ রিদুয়ান সিদ্দিকী বলেন, “আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অধিকাংশ হামলাকারী এখনও আত্মগোপনে থেকে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা বারবার সিএমপি কমিশনারকে বলেছি। কিন্তু এখনো তাদের অনেকেই ধরা পড়েনি, বরং তারা মাঝে মাঝে ঝটিকা মিছিল করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে।”

নিহত শহীদের ভাই শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার ভাই শহীদের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই মামলার বিচার সম্পন্ন হোক, সেটাই প্রত্যাশা।”

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত