রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীসহ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ মানুষ। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দুপুর ২টা ১৭ মিনিটের দিকে প্রধান মঞ্চসংলগ্ন এলাকায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রধান মঞ্চের সামনে বাউন্ডারিতে থাকা দর্শকদের মাঝে ওড়ানোর জন্য কিছু বেলুন সরবরাহ করা হয়। বেলুনগুলো হিলিয়াম ও অন্যান্য অজ্ঞাত গ্যাসে পূর্ণ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। হঠাৎ কয়েকটি বেলুন বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়। আগুনের তাপে বেলুনের প্লাস্টিক ছিঁড়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে আশপাশে অবস্থানকারী বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন।
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, “মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের বেলুন বিস্ফোরণে আহত ১০ জন হাসপাতালে এসেছেন। তাদের অধিকাংশেরই আঘাত গুরুতর নয়, তবে দু’জনের অবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি জটিল।” ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, আহতদের একজনের শরীরের প্রায় ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।
বেলুনে আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে আশপাশে সিগারেটের আগুন, বৈদ্যুতিক স্পার্ক বা গ্যাসচাপজনিত বিষয়কে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আয়োজকদের একজন স্বেচ্ছাসেবক বলেন, “বেলুনগুলো একসঙ্গে বাঁধা ছিল, ধারণা করা হচ্ছে গ্যাসের উচ্চচাপ অথবা আগুনের সংস্পর্শে একযোগে বিস্ফোরণ ঘটে।”
বিস্ফোরণের পরপরই অনুষ্ঠানে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি শুরু হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং দগ্ধদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় এখনও আহতদের নাম ও পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আয়োজকদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। তবে আয়োজক কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা নিশ্চিত হতে চাই, এটা নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো অপশক্তি সক্রিয় ছিল।”
বিস্ফোরণের ঘটনায় অনুষ্ঠানের উৎসবমুখর পরিবেশ কিছু সময়ের জন্য বিঘ্নিত হলেও আয়োজকরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অনুষ্ঠান পুনরায় শুরু করেন।


