বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

আ’লীগ এমপিদের ৩১ বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে বেকায়দায় কাস্টমস

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সাবেক সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা ৩১টি বিলাসবহুল গাড়ি বিক্রিতে চরম বেকায়দায় পড়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত বছরের জুন-জুলাই মাসে তৎকালীন এমপিরা জাপান থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় এসব গাড়ি আমদানি করেন। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের ৬ আগস্ট সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং এর সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শুল্কমুক্ত সুবিধা বাতিল করে। এরপর ওই বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে গাড়িগুলো দেশে পৌঁছালেও আইনি জটিলতায় সেগুলো ছাড় হয়নি। এমপিরা দেশ ত্যাগ করার পর এসব গাড়ি বন্দরে ফেলে যান। ফলে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ নয় মাস ধরে গাড়িগুলো বিক্রির জন্য নানামুখী চেষ্টা চালাচ্ছে।
এসব গাড়ি বিক্রির জন্য প্রথম ধাপে সাবেক এমপিদের ফেলে যাওয়া ২৪টি গাড়িসহ মোট ৪৪টি গাড়ি বিক্রির জন্য নিলামে তোলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। এসব গাড়ির বাজারমূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা ধরা হলেও নিলামের ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আগ্রহী ক্রেতার সংখ্যা বাড়াতে অনলাইনের পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামে সরাসরি বাক্সে দর গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়। ২ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গাড়িগুলো সরাসরি প্রদর্শনেরও ব্যবস্থা ছিল। তবুও নিলামে হতাশাজনক দর পাওয়া যায়। একমাত্র একটি গাড়ির জন্য সর্বোচ্চ ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা প্রস্তাব আসে, বাকিগুলোর জন্য দর ওঠে মাত্র ১ থেকে ৩০ লাখ টাকার মধ্যে। ১৪টি গাড়িতে বিড হলেও ১০টি গাড়ি কিনতে আগ্রহী কেউ ছিল না।
এ অবস্থায় চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয় নিলাম আয়োজনের আগে এনবিআরের কাছে মতামত চেয়েছে। কাস্টমসের সহকারী কমিশনার (নিলাম) সাকিব হাসান জানান, যদি ৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকার গাড়ি ১ থেকে ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়, তাহলে সরকারের রাজস্ব আদায়ের সুযোগ থাকবে না। তাই গাড়ি বিক্রিতে কৌশল পরিবর্তনের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। কাস্টমসের উপ-কমিশনার সাইদুল ইসলাম বলেন, এনবিআর নির্দেশ দিয়েছে যে, দ্বিতীয় নিলাম হলেও যেন গাড়িগুলো ন্যূনতম একটি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হয়। এই নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিমধ্যেই একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে, এমপি কোটায় আমদানি করা এসব গাড়ি কিনতে সরকারি সংস্থাগুলোরও আগ্রহ দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পাঁচটি ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি অকশন মূল্যে কেনার প্রস্তাব দিয়েছে। বন্দর সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, নিজেদের যানবাহন সংকট মেটাতে গাড়িগুলো কেনার অনুমতি চেয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এনবিআরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বন্দরের কার শেডে সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে পড়ে থাকা এসব গাড়ি কিনে নিয়ে সংস্থার নিজস্ব কাজে ব্যবহার করা হবে।
প্রথম নিলামে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় একটিও গাড়ি বিক্রি হয়নি। এর ফলে সরকার অন্তত দেড়শ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আইন অনুযায়ী, দ্বিতীয় নিলামে প্রথম নিলামের চেয়ে বেশি দর উঠলে কাস্টমস বিডারের কাছে গাড়ি হস্তান্তর করতে বাধ্য। তাই এনবিআরের সুস্পষ্ট নির্দেশ ছাড়া দ্বিতীয় নিলাম আয়োজনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না চট্টগ্রাম কাস্টমস।
ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের মুখে পালিয়ে যাওয়া দ্বাদশ সংসদের ৩১ জন সংসদ সদস্যের নামে আমদানি করা এই বিলাসবহুল গাড়িগুলো বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের কার শেডে পড়ে আছে। এর মধ্যে একটি গাড়ি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট মামলা থাকায় সেটি বিক্রির বাইরে রাখা হয়েছে। বাকি ৩০টি গাড়ি বিক্রিতে কাস্টমস এখন ন্যূনতম মূল্য ধরে রাজস্ব আদায়ের কৌশল খুঁজছে। গাড়িগুলো বিক্রি হলে সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, তবে অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রি হলে রাজস্ব ক্ষতির বোঝা বহন করতে হবে রাষ্ট্রকে। তাই এনবিআরের চূড়ান্ত নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত