প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নির্বাচন যদি বৈধ ও গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে তার কোনো অর্থ থাকে না। গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে বাংলাদেশ আবারও পুরোনো সংকটে পড়বে বলে সতর্ক করেন তিনি।
বুধবার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে সিঙ্গাপুরভিত্তিক চ্যানেল নিউজ এশিয়া (সিএনএ)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউনূস বলেন, “আমার দায়িত্ব হলো এমন একটি নির্বাচন নিশ্চিত করা, যা হবে গ্রহণযোগ্য, পরিচ্ছন্ন ও উৎসবমুখর। আমরা প্রায় আমাদের লক্ষ্যের কাছে পৌঁছে গেছি, তবে বহু বিষয়ের সংস্কার প্রয়োজন, কারণ আগের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল দুর্নীতি, অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগে ভরা।”
তিনি জানান, ক্ষমতা গ্রহণের সময় তিনটি প্রধান অঙ্গীকার ছিল — সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। এই লক্ষ্য অর্জনের পথে তিনি রয়েছেন, আর নির্বাচন শেষে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে ইউনূস বলেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি ভারতে পালিয়ে গেছেন এবং তার অনুপস্থিতিতে বিচার চলছে। বিক্ষোভ দমনে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরত চাইলেও ভারত সাড়া দেয়নি। ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা তাকে রাখুন, আমাদের বিচার চলবে, তবে তিনি যেন বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ না পান।”
আঞ্চলিক সম্পর্ক নিয়ে ইউনূস বলেন, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং ভারতের সঙ্গেও সেই সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। তিনি নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সেভেন সিস্টার্স)কে বঙ্গোপসাগরভিত্তিক অর্থনৈতিক অঞ্চলে যুক্ত করার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।
দায়িত্ব নেওয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে তিনি বলেন, প্রথমে দায়িত্ব নিতে না চাইলেও ছাত্রনেতাদের অনুরোধ ও জনগণের ত্যাগ তাকে রাজি করায়। সাক্ষাৎকারের শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, “বাংলাদেশ আর পথভ্রষ্ট হবে না। যুবসমাজ যেন ভোটের মাধ্যমে তাদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা ব্যালট বাক্সে তুলে ধরে, একটি ভালো সরকার আসে এবং তা গণতান্ত্রিক নীতিমালা মেনে চলে।”


