বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অনন্য উদ্যোগ

ইউনিয়ন পর্যায়ে গণশুনানি, জনগণের সেবায় নতুন দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন হাতে নিয়েছে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ—ইউনিয়ন পর্যায়ে সরাসরি গণশুনানি আয়োজন। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার ১০ নম্বর সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এ কর্মসূচি। আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন, সীতাকুণ্ড।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাদি উর রহিম জাদিদ। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম জেলার ১৯১টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে বর্তমানে ৩৬টিতে নেই কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সরাসরি ইউনিয়ন পর্যায়ে গিয়ে জনগণের সমস্যার কথা শোনা ও তাৎক্ষণিক সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এটি শুধুই প্রশাসনিক সেবা নয়, বরং জনগণের আস্থার কেন্দ্রে প্রশাসনকে আরও সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস।

দিনব্যাপী গণশুনানিতে সলিমপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ভূমি জটিলতা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা, মাদক নিয়ন্ত্রণসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক মনোযোগ দিয়ে সেগুলো শোনেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানযোগ্য সমস্যাগুলো নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে।

জটিল সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে তিনি আশ্বস্ত করেন, ধাপে ধাপে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখযোগ্য যে, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসক প্রতি বুধবার কার্যালয়ে গণশুনানি করেন। এবার সেই কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে এনে জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন স্থাপন করেছে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

গণশুনানিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “জনগণের সমস্যা সমাধান করাই প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। মানুষকে সেবা পেতে আর অফিসে দৌড়াতে হবে না, প্রশাসনই যাবে জনগণের কাছে—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”

তিনি আরও বলেন, “গণশুনানি শুধু সমস্যার সমাধান নয়, বরং জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে আস্থা ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ককে শক্তিশালী করে।”

অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা প্রশাসক ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে একটি জারুল গাছের চারা রোপণ করেন। তিনি বলেন, “পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত জরুরি।”

গণশুনানি শেষে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও সক্রিয় হয়ে জনগণের সেবা প্রদানের নির্দেশনা দেন।

এই আয়োজনে শুধু গণশুনানিই নয়, ছিল সামাজিক দায়বদ্ধতার নজিরও। উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ১০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ জেলে পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন জেলা প্রশাসক।

গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারী সাধারণ মানুষ এ উদ্যোগকে “যুগান্তকারী” হিসেবে অভিহিত করেন। তারা বলেন, “আগে সমস্যার সমাধানে এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরতে হতো, কিন্তু আজ জেলা প্রশাসক নিজে এসে আমাদের কথা শুনেছেন এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছেন—এটি সত্যিই অভাবনীয়।”

সলিমপুর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত এ গণশুনানি কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি জনগণের প্রত্যাশা পূরণের এক বাস্তব পদক্ষেপ। ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ইউনিয়ন পর্যায়ে সুশাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতি পাবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত