চট্টগ্রাম ওয়াসার সরবরাহকৃত পানির প্রায় ২৬.৫ শতাংশ রাজস্ববিহীনভাবে নষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে ৩.৯ শতাংশ পাইপলাইনের ফুটোর কারণে অপচয় হয়। বাকি অংশ চুরি, অবৈধ সংযোগ ও মিটারে কারসাজির মাধ্যমে নষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী।
১৯৬৩ সালে যাত্রা শুরু করা ওয়াসা বর্তমানে ১,২৪৫ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে নগরে পানি সরবরাহ করে। এর মধ্যে ৭০০ কিলোমিটার নতুন পাইপলাইন বসানো হলেও পুরোনো এবং নতুন উভয় ধরনের লাইনেই ফুটোর সমস্যা রয়ে গেছে। তথ্য অধিকার আইনে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে পাইপলাইনে ২,১৩৯টি ফুটো হয়েছে। এতে কোটি টাকার পানি অপচয়ের পাশাপাশি মেরামত বাবদ খরচ হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান বলেন, ‘কারিগরি ত্রুটি সহনীয় সীমা সাধারণত ৫ শতাংশ। কিন্তু ওয়াসার ক্ষেত্রে তা ২৬.৫ শতাংশে পৌঁছেছে—এটা অশনিসংকেত। চোরাই লাইন ও অবৈধ সংযোগের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে রাজস্ববিহীন পানির অঙ্ক বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে। ফলে গ্রাহকের ওপর পানি বিলের চাপ বাড়ানো হচ্ছে, যা অযৌক্তিক।’ তিনি আরও বলেন, ওয়াসাকে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে রাজস্ববিহীন পানির পরিমাণ ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেন, ‘ওয়াসা একটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হলেও দুর্নীতির কারণে এটি জনমুখী হতে পারেনি। উৎপাদন থেকে রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত প্রতিনিয়ত লুটপাট চলছে। এর কোনো জবাবদিহি নেই। পুরো প্রতিষ্ঠানকে সংস্কারের আওতায় আনতে হবে।’
চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, ‘পাইপ ফুটো, অবৈধ সংযোগ ও মিটার রিডিং সমস্যার কারণে কিছু পানির রাজস্ব পাওয়া যায় না। তবে আমরা রাজস্ববিহীন পানি শূন্যের কোঠায় আনতে কাজ করছি। ইতোমধ্যে ৩ হাজার স্মার্ট মিটার বসানো হয়েছে এবং ৭০০ কিলোমিটার নতুন পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। আরও ৩৮৩ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানোর কাজ চলছে।’


