চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষের ঘটনায় ইসলামী ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে ‘দৈনিক ইনকিলাব’ পত্রিকায় ‘চবিতে হামলা চলাকালে অস্ত্রহাতে শিবির ক্যাডাররা! ভিডিও ভাইরাল’ শিরোনামে একটি ভিত্তিহীন, চরম মিথ্যাচারপূর্ণ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করেছে।
ইসলামী ছাত্রশিবির, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এই হীন কাজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। পাশাপাশি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই মিথ্যা সংবাদ অপসারণ করে ইনক্বিলাব কর্তৃপক্ষকে ভুল শিকার করার আহ্বান করছি।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) শাখা সভাপতি মোহাম্মদ আলী ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ এক যৌথ বিবৃতি এ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রকাশিত সংবাদের প্রথম প্যারায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এই সংঘর্ষের সময় ছাত্রশিবিরের ক্যাডারদের প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র হাতে দেখা যায়।’
সংবাদের দ্বিতীয় প্যারায় কারও নাম উল্লেখ না করেই প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের নামে বানোয়াট এবং হাস্যকর যে উদ্ধৃতি তারা করেছে, তা ছিলো এমন; ‘শুধু অস্ত্র প্রদর্শনেই থেমে থাকেনি শিবিরের ক্যাডাররা, তারা সুযোগ বুঝে এসব অস্ত্র দিয়েই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। অনেক শিক্ষার্থী দৌঁড়ে আত্মরক্ষা করেন, কেউ কেউ আহতও হয়েছেন বলে জানা গেছে।’
সংবাদের তৃতীয় প্যারায় উল্লেখ করা হয়েছে আরও মনগড়া এক গল্প। যেখানে বলা হয়; ‘এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত দেশের প্রথম সারির একটি গণমাধ্যমের সাংবাদিক সংঘর্ষের দৃশ্য লাইভ করার চেষ্টা করলে একাধিক শিবিরকর্মী তাকে সরাসরি হুমকি দিয়ে লাইভ বন্ধ করতে বাধ্য করেন।’
চতুর্থ প্যারায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে করা হয়েছে চরম মিথ্যাচার। আর তা ছিলো এমন; ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়দের আড়ালে তবে কী এই গুপ্ত হামলা চালালো শিবির?’
এভাবে পুরো সংবাদে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে তুলে ধরা প্রতিটি তথ্যই সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপবাদ। এমনকি সংবাদের যে সাধারণ বৈশিষ্ট্য ‘উভয়পক্ষের বক্তব্য নেওয়া’, সেটিও এই পরিকল্পিত সংবাদে অনুসরণ করা হয়নি।
বিবৃতিতে ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, সংঘর্ষ চলাকালে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা এবং সংবাদকর্মীরা ছাত্রশিবিরের ভূমিকা প্রত্যক্ষ করেছে। এছাড়া পুরো ঘটনার অসংখ্য লাইভ সম্প্রচার এবং ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যার কোথাও ছাত্রশিবিরের সাথে জড়িত কাউকে অস্ত্রহাতে দেখা যায়নি। বিপরীতে এ ঘটনায় ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। যা ইতিমধ্যে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা তাদের বিভিন্ন বক্তব্যে উল্লেখ করেছে।
কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়া একটি জাতীয় দৈনিকে এমন মিথ্যাচার ছাত্রশিবিরের জন্য চরম মানহানিকর। অতএব আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উক্ত সংবাদে উল্লেখিত প্রতিটি তথ্যের প্রমাণ হাজির করতে না পারলে এমন ঘৃণ্য প্রোপাগাণ্ডার মাধ্যমে ছাত্রশিবিরের মানহানির দায় নিয়ে ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান করছি। অন্যথায় ইসলামী ছাত্রশিবির আইনের সহায়তা গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।


