বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

চবিতে সংঘর্ষের পর আতঙ্কে পুরুষশূন্য জোবরা গ্রাম 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জোবরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের পর গ্রামে নেমে এসেছে নীরবতা ও আতঙ্ক। অধিকাংশ পুরুষ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। সোমবার পর্যন্ত জারি থাকা ১৪৪ ধারার সময়সীমা বাড়িয়ে মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা পর্যন্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার চবি প্রশাসন বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলায় ৯৮ জনকে নামীয় এবং আরও প্রায় এক হাজার জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন,“সংঘর্ষের ঘটনায় একটি মামলা ও একটি জিডি করা হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছি। শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার অনুরোধ করছি।”

জোবরা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, দোকানপাট ও ঘরের দরজা-জানালা ভাঙা, টিনের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত। এলাকার অনেকেই ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, “এমন পরিস্থিতি আমরা কখনো চাইনি। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসুক। প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।”

কেউ কেউ মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শনিবার রাতের ঘটনার পরপরই ২নং গেট বন্ধ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে সংঘর্ষের মাত্রা এতটা ভয়াবহ হতো না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন জানিয়েছেন,“এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪৪ ধারার মেয়াদ মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।”

শনিবার রাত ১২টা ১৫ মিনিটে দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সাফিয়া খাতুনকে একটি ভবনের দারোয়ান বাসায় ঢুকতে বাধা দেন এবং মারধর করেন। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা দারোয়ানকে ধরতে গেলে স্থানীয়রা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, যা রবিবারও অব্যাহত থাকে।

সংঘর্ষে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, প্রো-ভিসি, সাংবাদিক এবং শতাধিক গ্রামবাসী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত