বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

রাঙামাটির ট্রাক টার্মিনাল দোকানে ভরপুর

রাঙামাটি প্রতিনিধি :

দেশের অন্যতম পর্যটন শহর রাঙামাটিতে অপরিকল্পিত যানবাহন পার্কিং ও টার্মিনাল সংকট ক্রমেই প্রকট আকার ধারণ করছে। শহরের দুইটি টার্মিনাল থাকলেও সেগুলোতে ট্রাক রাখার জায়গার পরিবর্তে দোকান ও গোডাউন গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে চালকদের বাধ্য হয়ে রাস্তায় গাড়ি রাখতে হচ্ছে। এতে শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে।

প্রায় ৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই শহরে প্রতিদিন ৬ শতাধিক ট্রাকসহ সাড়ে তিন হাজারের মতো গাড়ি চলাচল করে। অথচ একমাত্র ট্রাক টার্মিনালে অন্তত ২০টি দোকান বরাদ্দ দিয়ে নিয়মিত ভাড়া ও মাসোহারা তুলছে পৌরসভা। স্থানীয় চালক-শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, কাগজপত্রে ইজারা দেওয়া হলেও বাস্তবে দোকান ও পৌরসভার নষ্ট গাড়ি দখল করে রেখেছে জায়গা।

২০০১ সালে কাজ শুরু হয়ে ২০০৫ সালে নির্মিত রাঙামাটি পৌর ট্রাক টার্মিনালটিতে শ্রমিকদের জন্য মাত্র দুটি রুম রাখা হলেও বাকি জায়গা গোডাউনের নামে দখল হয়ে আছে। ফলে গাড়ি রাখার পাশাপাশি শ্রমিকদের বিশ্রামের ব্যবস্থাও নেই। চালক সমিতির নেতা সিরাজ জানান, টার্মিনালে অন্তত ৫০টি দোকান ও ঘর সরালে আরও ৫০টির মতো ট্রাক রাখা সম্ভব হতো।

অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভার প্রভাবশালী একটি মহল দোকানদারদের কাছ থেকে প্রতি সপ্তাহে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করছে। অনেক দোকানের মেয়াদ শেষ হলেও তা নবায়ন ছাড়াই চলছে। ইজারাদাররাও দাবি করেছেন, কাগজে তাদের ইজারা দেওয়া হলেও পৌর কর্তৃপক্ষ গোপনে দোকানের ভাড়া তোলে।

শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন শত শত ড্রাইভার টার্মিনালে আসেন। কিন্তু জায়গার অভাবে গাড়ি পার্কিং ও বিশ্রাম সম্ভব হয় না। এ অবস্থায় তারা বিকল্প টার্মিনাল নির্মাণের দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যে লিখিত আবেদনও করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা অবৈধভাবে টার্মিনালের জায়গায় দোকান গড়ে তুলে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তা ভাড়া দিয়েছিল। এর ফলেই বর্তমানে টার্মিনাল সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

চালক-শ্রমিক ইউনিয়নসহ সাধারণ মানুষ দ্রুত রাঙামাটির ট্রাক টার্মিনাল থেকে অবৈধ দোকান ও ঘর সরিয়ে মূল কার্যক্রম সচল করার দাবি জানিয়েছেন।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত