চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফেসবুকে উস্কানিমূলক ছবি পোস্টকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সুন্নি ও কওমি মতাদর্শের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা প্রশাসন শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরিয়ান ইব্রাহিম (২০) নামের এক যুবক আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম (হাটহাজারী মাদ্রাসা) নিয়ে অশালীন অঙ্গভঙ্গির ছবি নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে কওমি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পর হাটহাজারী বাসস্টেশন এলাকায় তারা বিক্ষোভ শুরু করলে সুন্নি মতাদর্শের অনুসারীরাও পাল্টা অবস্থান নেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে অন্তত ৭০ জন আহত হন। এ সময় বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয় এবং যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, সংঘর্ষে আহত ৬০ জনেরও বেশি হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। আহতদের মধ্যে ৩ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়াল্টি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। তবে সবাই আশঙ্কামুক্ত।
পরে পরিস্থিতি শান্ত করতে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আরিয়ান ইব্রাহিমকে আটক করে। আটক যুবক মুহাম্মদ মুছার ছেলে এবং ফটিকছড়ি পৌরসভার ছাত্রদলের ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি পরিচয় দিলেও ফটিকছড়ি পৌরসভা ছাত্রদল জানিয়েছে, তার সঙ্গে সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই। আটক হওয়ার পর আরিয়ান ইব্রাহিম ভিডিও বার্তায় নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমেদ জানান, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফটিকছড়ি পৌরসভার শফিকিয়া দরবার শরীফ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, “তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন রাত ১০টা থেকে ১৪৪ ধারা জারি করেন। তার আদেশ অনুযায়ী, মীরের হাট থেকে এগারো মাইল সাবস্টেশন এবং উপজেলা গেইট থেকে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট পর্যন্ত এলাকায় আগামীকাল (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা পর্যন্ত পাঁচজন বা ততোধিক মানুষের জমায়েত, সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ, মিছিল, অস্ত্র বহন এবং গণজমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনগণের জানমাল রক্ষা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


