চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে কমিশনার ও সদস্যসচিব অধ্যাপক এ. কে. এম. আরিফুল হক সিদ্দিকী নিশ্চিত করেন এ তথ্য। সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদ মিলিয়ে ৯০৮ জন প্রার্থী বৈধতা পেয়েছেন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদে ৪১৫ এবং ১৪টি হলে ৪৯৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
চাকসু নির্বাচনের কেন্দ্রীয় সংসদের ২৬টি পদে মোট ৪১৫ জন প্রার্থী লড়বেন। এর মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ২৪, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ২২, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২১, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১২, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক ১৪, সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পাদক ১৭, সহ-সাহিত্য সম্পাদক ১৫, দপ্তর সম্পাদক ১৭, সহ-দপ্তর সম্পাদক ১৪, ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক ১৩, সহ-ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক ১০, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক ১১, গবেষণা ও উদ্ভাবন সম্পাদক ১২, সমাজসেবা ও পরিবেশ সম্পাদক ২০, স্বাস্থ্য সম্পাদক ১৫, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ১৭, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক ১৬, যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ১৭, সহ-যোগাযোগ সম্পাদক ১৪, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ৯, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক ২০ এবং নির্বাহী সদস্য পদে ৮৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
হল সংসদগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মোট ৪৯৩ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ছাত্র হলগুলোতে ৩৫০ এবং ছাত্রী হলগুলোতে ১২৩ জন। ছেলেদের হলের মধ্যে এ এফ রহমান হলে ৩৮, আলাওল হলে ৩২, অতীশ দীপঙ্কর হলে ৩৭, শাহ আমানত হলে ৪৩, শহীদ ফরহাদ হোসেন হলে ৪৫, মাস্টারদা সূর্যসেন হলে ৩৭, শহীদ আব্দুর রব হলে ৩১, শাহজালাল হলে ৩৪, সোহরাওয়ার্দী হলে ৫৩ এবং শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেলে ২০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অন্যদিকে মেয়েদের হলে বিজয় ’২৪ হলে ২৮, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলে ৩০, নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলে ১৭, প্রীতিলতা হলে ২৬ এবং শামসুন্নাহার হলে ২২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। সে অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদে ১১ জন এবং হল সংসদে ৯ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। প্রত্যাহারকারীদের মধ্যে সহসভাপতি, সহ-সাধারণ সম্পাদক, স্বাস্থ্য সম্পাদক, সাহিত্য সম্পাদক, আবাসন সম্পাদক, মানবাধিকার সম্পাদক ও ক্রীড়া সম্পাদকসহ বেশ কিছু পদে প্রার্থীরা ছিলেন। হল পর্যায়ে আলাওল হলে সহসভাপতি, রশিদ চৌধুরী হোস্টেলে সহ-সাধারণ সম্পাদক, শহীদ ফরহাদ হলে সহসভাপতি ও সাহিত্য সম্পাদক, শাহজালাল হলে সহ-সাধারণ সম্পাদক ও বিজ্ঞান সম্পাদক, অতীশ দীপঙ্কর হলে নির্বাহী সদস্য এবং ছাত্রী হলে বিজয় ’২৪ হলের স্বাস্থ্য সম্পাদক ও খালেদা জিয়া হলে সমাজসেবা সম্পাদক প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এছাড়া ত্রুটিপূর্ণ ফরমের কারণে কেন্দ্রীয় সংসদে আরও চারটি মনোনয়ন বাতিল হয়।
চাকসু নির্বাচনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমে এক সপ্তাহের পরীক্ষা স্থগিত রাখার প্রস্তাব করা হলেও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে শুধু ১৫ ও ১৬ অক্টোবরের পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট শেষে তাৎক্ষণিকভাবে গণনা শুরু হবে।
দীর্ঘ ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই চাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠনগুলোর কর্মতৎপরতা বাড়ছে। ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের প্রচারণাও আরও জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


