কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন হাফেজ আমজাদ হোসাইন (২৪)। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড নতুন মহাল কামারের দোকান বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আমজাদ স্থানীয় বাজার ইউনিট যুব জামায়াতের সেক্রেটারি এবং প্রবাসফেরত তরুণ ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ক্যাডার ছৈয়দ নুরের ছেলে রাফি ও মোফাচ্ছেলের নেতৃত্বে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা আমজাদকে উপুর্যপুরী ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে রাফির নাম উঠে এসেছে। রাফি এলাকায় সাবেক সাংসদ মোস্তাক আহমদ চৌধুরী ও তার স্ত্রী সাবেক মহিলা এমপি কানিজ ফাতেমার পালিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।
এ নির্মম হত্যার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। এতে জামায়াত-শিবির, ছাত্রদল ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। নিহতের বড় ভাই সাদ্দাম, যিনি উপজেলা ছাত্রদলের নেতা, জানান—তার ভাই শান্ত-শিষ্ট প্রকৃতির, সদ্য বিবাহিত এবং কারও সঙ্গে বড় কোনো বিরোধে জড়িত ছিলেন না। রাজনৈতিক কারণে আগে থেকেই খুনিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। বুকভাঙা আহাজারি করে তিনি বলেন, “আমার ভাই হাফেজে কোরআন। শুধু রাজনৈতিক কারণে তাকে খুন করা হলো। আমরা দুনিয়া ও আখেরাতে এ হত্যার বিচার চাই।”
নিহতের লাশ উদ্ধারের পর মর্গে নেওয়া হলে সেখানে ছুটে যান কক্সবাজার-৩ আসনে জামায়াতের মনোনীত এমপি প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুরসহ জামায়াত-শিবিরের নেতৃবৃন্দ। তারা দ্রুত খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জানান। এদিকে রাতেই ছাত্রদল কক্সবাজার শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ইলিয়াছ খান জানান, স্থানীয় জনতা এহছানুল হক নামের একজনকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে। তবে মূল আসামি রাফি ও তার সহযোগীরা এখনো পলাতক রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে কক্সবাজার জেলা জামায়াত বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।


