চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের মছজিদ্দা মৌজায় সরকারি জমি দখল ও পরিবেশদূষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড-এর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মছজিদ্দা মৌজার ৯ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ৫৬১২ দাগে প্রায় ৩৩ শতক সরকারি ছড়া প্রকৃতির জমি জিপিএইচ ইস্পাত অবৈধভাবে দখল করেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ডাস্ট ক্লিনিং মেশিন থেকে নির্গত ধোঁয়া ও ধূলিকণায় অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকার জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এর আগে পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে তদন্তে গিয়ে পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়। পাশাপাশি সরকারি জমি দখলের বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (ভূমি) সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিমাপের জন্য আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করেন।
সরেজমিন পরিদর্শনের সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মোল্লাপাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী পরিবার ও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সহকারী কমিশনারের কাছে দাবি জানান—সরকারি জমি দখল ও পরিবেশদূষণের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হোক।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জিপিএইচ ইস্পাত কারখানার ডাস্ট মেশিন থেকে নির্গত ধোঁয়া ও ধূলিকণার কারণে শত শত পরিবার স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও ত্বকের রোগসহ নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফলে জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে কারখানার বর্জ্য।

পরিদর্শন শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিবেদন আকারে পাঠানো হবে বলে জানান।
বিষয়টি জানতে জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল-এর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ওই এলাকার পাহাড়ি ছড়ায় বাঁধ নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে, যা স্থানীয় পরিবেশ ও পানি প্রবাহের ভারসাম্য নষ্ট করছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এ ঘটনায় বন বিভাগ মামলাও করেছে, তবে রহস্যজনক কারণে দীর্ঘদিনেও মামলায় কোনো অগ্রগতি হয়নি।
স্থানীয়দের মতে, প্রভাবশালী শিল্পপ্রতিষ্ঠান হওয়ার কারণে প্রশাসনিক তৎপরতা থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ দুটোই মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।


