কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিমল চাকমার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ এনে তাঁর প্রত্যাহার দাবি করেছেন উপজেলার সচেতন বেশকয়েকজন নাগরিক। এ বিষয়ে তাঁরা সম্প্রতি জেলা প্রশাসক আব্দুল মন্নান বরাবর লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইউএনও বিমল চাকমা ঈদগাঁও উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি নিয়মিতভাবে গণমাধ্যমের সমালোচনার মুখে পড়ছেন এবং উপজেলা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, গত বছরের কোরবানির ঈদের আগে ১৫৫টি বার্মিজ গরু ও মহিষ অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের অভিযোগে জব্দ করা হয়। কিন্তু পরে নাটকীয়ভাবে মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যে ৩২ লাখ টাকার বিনিময়ে এসব গবাদিপশু ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর ১৮ মে কয়েকজন নাগরিক ইউএনও বিমল চাকমার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে আবেদন করেন। বর্তমানে এ সংক্রান্ত তদন্ত সহকারী জেলা প্রশাসকের (এডিএম) কাছে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তদন্ত দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে ইউএনও তাঁর আগের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি উপজেলা জুড়ে ফসলি জমির টপসয়েল লুটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং নিয়মিত উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন। এছাড়া, দীর্ঘদিন ধরে বালি মহাল ইজারা না দিলেও অবৈধ বালি উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে মাসোহারা নিয়ে লোকদেখানো অভিযান পরিচালনা ও নিলামের নামে বালি খেকোদের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এমন অনিয়মের কারণে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং স্থানীয় পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়। এসব অবৈধ গর্তে পড়ে ইতোমধ্যে অন্তত অর্ধডজন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে আবেদনকারীরা উল্লেখ করেছেন।
সর্বশেষ অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউএনও বিমল চাকমা কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় কর্মরত থাকাকালীন প্রায় দুই কোটি টাকার চেক জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মঞ্জুর আলম তাঁর বিরুদ্ধে কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে পিটিশন মামলা (নং ৫/২০২৫) দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)কে তদন্তের নির্দেশ দেন।
এসব অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে ইউএনও বিমল চাকমার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এ কর্মকর্তা দায়িত্বে থেকে প্রশাসনের ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করছেন।
জনঅসন্তোষ বিস্ফোরণের আগেই সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে তাঁর দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন—এডভোকেট ছলিম উল্লাহ বাহাদুর, এডভোকেট শেখ আহমদ ফারুকী, ঈদগাঁও উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাব সভাপতি মিজবাহ উদ্দিন ও এডভোকেট মোবারক হোসাইন সাঈদ।


