বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

২১৫ কোটি টাকার কক্সবাজার স্টেশন ভবন এখন অচল অবকাঠামো

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দোকানের জায়গা, এটিএম বুথ, ডাকঘর, লাগেজ ও লকার রাখার ব্যবস্থা, যাত্রী বিশ্রামাগার—সবই থাকার কথা। রয়েছে টিকিট কাউন্টার, সরকারি অফিসের সেবা ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক সুবিধার পরিকল্পনাও। কিন্তু সরেজমিন দেখা গেছে, এসবের কিছুই বাস্তবে চালু হয়নি। কেবল যাত্রীদের বসার জন্য কয়েকটি বেঞ্চই এখন ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় আছে।

দ্বিতীয় তলার আয়তন ৪২ হাজার ৭৭ বর্গফুট। এখানে ১৭টি দোকান ও একটি ফুড কোর্টের জায়গা তৈরি করা হয়েছে। রয়েছে ডিপারচার লাউঞ্জ, ওয়েটিং লাউঞ্জ, ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন ডেস্ক, প্রোডাক্ট ডিসপ্লে সেন্টার এবং প্রার্থনা কক্ষ। কিন্তু এসব সুবিধার কোনো কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। নিচ থেকে তাকিয়ে দেখা যায়—ওপরের তলাগুলো বন্ধ ও অন্ধকার।

তৃতীয় তলার আয়তন ৩৫ হাজার ৩২৫ বর্গফুট। এখানে ভাড়া দেওয়ার জন্য ১৭টি দোকানের জায়গা এবং পাঁচটি শোরুম, ফুড কোর্ট ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। চতুর্থ তলা ৪৩ হাজার ৬৬ বর্গফুট আয়তনের—যেখানে হোটেল সুবিধার জন্য ৩৯টি রুম তৈরি করা হয়েছে; এর মধ্যে ২৫টি স্ট্যান্ডার্ড এবং ১৪টি ডিলাক্স রুম। পাশাপাশি রয়েছে চারটি বাণিজ্যিক স্পেস, রেস্টুরেন্ট ও ডাইনিং এরিয়া।

পঞ্চম তলায় (৩৫ হাজার ৭৩৪ বর্গফুট) রয়েছে সাতটি অফিস স্পেস, একটি মাল্টিপারপাস হল ও একটি রেস্টুরেন্ট। ষষ্ঠ তলা (৩৬ হাজার ৫৯২ বর্গফুট) পুরোটা মাল্টিপারপাস ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত।

প্রতিটি তলায় রয়েছে সিঁড়ি, এস্কেলেটর, বেবি কেয়ার কর্নার, টয়লেট ও ইনফরমেশন ডেস্কের ব্যবস্থা। ভবনের বাইরে রয়েছে প্রশাসনিক ভবনসহ আরও ১৭টি স্থাপনা।

সব মিলিয়ে ২১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্টেশন ভবনের অবকাঠামো এখন কার্যত অচল। প্রতিদিন ধুলাবালিতে ঢেকে যাচ্ছে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন এই ভবন।

২০১৮ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকার দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করছে চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (CREC), চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (CCECC) এবং বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন ও ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড।

এ বিষয়ে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘উদ্যোগের অভাবেই এমন অবচয় হচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচালনার অভাবে শত কোটি টাকার বিশাল স্টেশনের কোনো সুফল মিলছে না। বিনিয়োগের রিটার্ন না আসায় এটি এখন বোঝায় পরিণত হয়েছে। তবে সব কিছুতে বিদেশিদের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়; দেশীয় প্রতিষ্ঠানও তৈরি করা জরুরি।’

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত