বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

সীতাকুণ্ডে মব সৃষ্টি করে সাংবাদিককে মারধর

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ‘মব’ সৃষ্টি করে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। আহত সাংবাদিকের নাম লিটন কুমার চৌধুরী (৫৪)। রবিবার (২০ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তার কাছে থাকা নগদ টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা।

আহত লিটন কুমার চৌধুরী দৈনিক জনকণ্ঠের সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি এবং সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তার বাড়ি সীতাকুণ্ড পৌর সদরের রেলগেট এলাকায়। আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চমেক হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি-২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়েছে।

লিটন কুমার চৌধুরীর ওপর হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘সীতাকুণ্ড সম্মিলিত নাগরিক কমিটি’ নামের একটি ফেসবুক পেজে দেওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক লিটনকে ঘিরে রেখেছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন লিটনকে মারধর করছেন। লিটনকে ‘আওয়ামী লীগের দালাল’, ‘মিথ্যা নিউজ ছড়ানোর হোতা’ ইত্যাদি সম্বোধন করে মারধর করার দৃশ্য দেখা গেছে।

জানা গেছে, মারধরের পর রক্তাক্ত অবস্থায় লিটন চৌধুরীকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ লিটন চৌধুরীকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম ফোরকান আবু বলেন, ‘মব করে সাংবাদিকের ওপর হামলার চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। হামলাকারীদের ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মারধরের পর হামলাকারীরা উল্টো সাংবাদিক লিটন কুমার চৌধুরীকে থানায় নিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। যাতে পুলিশ তাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়। একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে মারধর করে হামলাকারীরা থানায় নিয়ে গেছে অথচ পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি। প্রশাসনের এমন নির্লিপ্ততার কারণে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। হামলায় কারা জড়িত পুলিশ চেনে। তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

লিটন চৌধুরীর ছেলে রাকেশ চৌধুরী বলেন, রাতে আমার বাবা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন যুবক এসে আমার বাবাকে উদ্দেশ্য করে নানা রকম বাজে মন্তব্য করেন এবং তাকে মারধর করতে থাকেন। তারা আমার বাবার মুঠোফোন ও মানিব্যাগও ছিনিয়ে নেয়। হামলায় আমার বাবার মাথায় গুরুতর জখম হওয়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন,’রবিবার রাতে কয়েকজন যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় সাংবাদিক লিটন চৌধুরীকে থানায় নিয়ে আসেন। তার বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত