দেশব্যাপী সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ-সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫’ অনুমোদন করা হয়েছে। কৃষিবিষয়ক জাতীয় সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটি অনুমোদন দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) নীতিমালাটি বাস্তবায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করে কৃষি মন্ত্রণালয়। আগামী রোববার (১৬ নভেম্বর) থেকে এটি কার্যকর হবে।
নতুন নীতিমালায় স্বচ্ছ দরপত্র প্রক্রিয়া, ডিজিটাল নজরদারি, ডিলার নিয়োগে কঠোর যোগ্যতা, একই পরিবারে একাধিক ডিলারশিপ নিষিদ্ধকরণ এবং সাব-ডিলার প্রথা বাতিলসহ বেশ কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, সার বাজারে দীর্ঘদিনের একচেটিয়া আধিপত্য, সিন্ডিকেটভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রবণতা বন্ধ করাই এর মূল লক্ষ্য। অতীতে পরিবহন ঠিকাদার ও ডিলারের একটি প্রভাবশালী চক্র সার মজুত করে সংকট সৃষ্টি করায় কৃষকদের বেশি দামে সার কিনতে হতো।
নতুন নীতিমালায় বিসিআইসি ও বিএডিসির পৃথক ডিলারশিপ কাঠামো একীভূত করে একক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হয়েছে। এখন থেকে সরকারি, আধাসরকারি বা বেসরকারি যেকোনো উৎসের সার একই নীতিমালার অধীনে বিতরণ হবে। ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া উভয় ধরনের সারও একই ব্যবস্থাপনায় বরাদ্দ দেওয়া হবে।
ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে ডিলার ইউনিটের সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। প্রতিটি ডিলারের অধীনে তিনটি বিক্রয়কেন্দ্র থাকবে, যেখানে ভর্তুকি, বিক্রয়মূল্যসহ সব তথ্য প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। বিক্রয়, উত্তোলন ও হিসাবরক্ষণ হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে। নির্ধারিত কেন্দ্র ছাড়া অন্য কোথাও ডিলার সার বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবেন না।
সরকারি কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, ফৌজদারি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং একই পরিবারের একাধিক সদস্য ডিলারশিপের জন্য অযোগ্য ঘোষিত হয়েছে। ডিলারশিপের জামানত দুই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করা হয়েছে, নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা। ডিলারদের কর্মক্ষমতার ভিত্তিতে নবায়ন বা বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত সাব-ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে। শহর এলাকায় জমির পরিমাণ অনুযায়ী ডিলার সংখ্যা নির্ধারণ করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
যেসব ইউনিটে ডিলার নেই সেসব স্থানে উপজেলা ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশে নতুন নিয়োগ দেওয়া হবে। কমিটিগুলো ১৫ দিনের মধ্যে ডিলারশিপ বণ্টন করবে। খালি ইউনিটের তালিকা জেলা পর্যায়ে প্রকাশ করে একই সঙ্গে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। নীতিমালার আওতায় সব ডিলারকে সরকারিভাবে নিবন্ধিত ও তালিকাভুক্ত করা হবে।
নতুন নীতিমালাটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সার বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কৃষকদের কাছে সহজলভ্যতা বাড়বে বলে আশা করছে কৃষি মন্ত্রণালয়।


