বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

চট্টগ্রামে বাকী ৬ আসনে কারা পাচ্ছে বিএনপির মনোনয়ন!

সাকিব উদ্দিন :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে ১০টিতে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মনোনয়ন ঘোষণা ইতোমধ্যে নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে নগর ও জেলার আরও ৬টি আসনে মনোনয়ন ঝুলে থাকায় নতুন করে জমেছে নানা সমীকরণ, গুঞ্জন ও হিসাব-নিকাশ।

চট্টগ্রাম নগরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসন—চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি–বাকলিয়া) ও চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর–পতেঙ্গা)—নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম-৯ আসনে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানের নাম মহাসচিব ঘোষণা করলেও পরে তা স্থগিত রাখা হয়। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১১ আসনে একাধিকবার নির্বাচিত আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নাম এবারও ঘোষণা না করে বরাদ্দ করা হয়েছে চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং–হালিশহর) আসনে।

এই দুই আসনে কে পাবেন ধানের শীষ—তা নিয়ে চলছে তীব্র জল্পনা। দলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমানের পুত্র সাঈদ আল নোমানের নাম চট্টগ্রাম-১০ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ছড়িয়ে পড়লেও সেখানে আমীর খসরুর প্রার্থিতা ঘোষণা হলে তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়। তবে তাকে চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে দলের ভেতরে। এ আসনে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নামও আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে কোতোয়ালি আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের যে তালিকা ডাকা হয়েছিল—সেখানে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ও জাতীয় কমিটির সদস্য শামসুল আলম ছিলেন। দলের ভেতরে ধারণা করা হচ্ছে—এই তিনজনের মধ্য থেকেই চূড়ান্ত প্রার্থী ঠিক হবেন। এ আসনে বিএনপি প্রার্থীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন জামায়াতের ডা. এ কে এম ফজলুল হক।

চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপি মহলে আলোচনায় উঠে আসছে আমীর খসরুর ছেলে ইসরাফিল খসরুর নাম। পাশাপাশি মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজিমুর রহমানের নামও রয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায়। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক কাউন্সিলর শফিউল আলম। অন্যদিকে সাবেক এমপি এম এ লতিফের পুত্র ও সাবেক চেম্বার সভাপতি ওমর হাজ্জাজও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে পারেন বলে গুঞ্জন চলছে।

নগরের বাইরে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ), চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান), চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) ও চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া–সাতকানিয়া) আসনে এখনো মনোনয়ন ঘোষণা করেনি বিএনপি।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে সাবেক এমপি মোস্তফা কামাল পাশা, কেন্দ্রীয় সদস্য মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন ও উত্তর জেলা বিএনপির নেতা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে আছেন।

রাউজান (চট্টগ্রাম-৬) আসনটি দলের সবচেয়ে সমস্যাসংকুল আসন হিসেবে পরিচিত। এখানে মনোনয়ন প্রত্যাশী দুই হেভিওয়েট নেতা—গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খন্দকার—গত এক বছর ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। সংঘাত, মারামারি ও খুনাখুনির কারণে এলাকা ‘হটস্পট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। উত্তর জেলা কমিটি ভেঙে দেওয়া ও পদ স্থগিতসহ নানা ব্যবস্থা নিলেও দুই গ্রুপের বিরোধ থামেনি। এ অবস্থায় এদের মধ্যে কাউকে মনোনয়ন দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। আবার এদের বাইরে কাউকে দিলে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কতটা সক্ষম হবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসন জোটের সমঝোতার অংশ হিসেবে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন এলডিপিকে ছাড় দেওয়া হতে পারে।

জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনেও বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। তাদের মধ্যে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মহিউদ্দিন, লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাজমুল মোস্তফা আমিন এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান আছেন আলোচনার কেন্দ্রে।

বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম জানান, “যেসব আসনে এখনও মনোনয়ন ঘোষণা হয়নি—তার অনেকগুলোই নির্বাচনী জোটের শরিকদের দেওয়া হতে পারে। যে আসনগুলো থাকবে, সেগুলোতে দলীয় মনোনয়ন পরবর্তী সময়ে ঘোষণা করা হবে।”

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত