বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের গুম হওয়া, আয়নাঘরে বন্দিদশা ও ভারতের শিলংয়ে তাঁকে উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয়েছে নতুন তথ্যচিত্র ‘আয়নাঘর ফাইলস’। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তৈরি এই সিরিজের পঞ্চম পর্বে উঠে এসেছে বিএনপির এই নেতার দুই মাসের নিখোঁজ থাকার বিভীষিকাময় স্মৃতিগুলো। সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ১৭ মিনিটের তথ্যচিত্রটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের ফেসবুক পেজে প্রচার করা হয়।
তথ্যচিত্রে সালাহউদ্দিন জানান, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসায় সাদা পোশাকে সশস্ত্র লোকেরা পরিচয় না দিয়েই দরজা ভেঙে ঢুকে তাঁকে চোখ ও হাত বেঁধে তুলে নিয়ে যায়। পরে অজ্ঞাত স্থানের একটি অন্ধকার, সঙ্কীর্ণ প্রকোষ্ঠে তাকে ৬১ দিন আটকে রাখা হয়। ৫ ফুট বাই ১০ ফুটের মতো সেই সেলের ভেতরে ছিল মাত্র একটি পানির ট্যাপ, একটি ছিদ্রযুক্ত নালা এবং খাদ্য ঢোকানোর জায়গা। দিন–রাতের পার্থক্য বোঝা যেত না, আর বাইরে সব সময় চালু থাকত একটি ফ্যান। বন্দিদশার সেই সময় তাকে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়েছে মৃত্যুচিন্তা। ভিডিওতে তিনি বলেন, “আমার হার্টে স্টেন্ট আছে। এখানে কতদিন টিকব জানতাম না। যদি মৃত্যু হয়, লাশটা পরিবারের কাছে দেওয়ার অনুরোধ করতাম।”
বন্দিদশার ৬১ দিনের পর একদিন তাকে গাড়িতে করে পাহাড়ি এক নির্জন রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে বলা হয়— “ইউ আর ফ্রি নাউ।” সালাহউদ্দিন বলেন, সেখানে তিনি পরে জানতে পারেন জায়গাটি শিলং গলফ লিংক। প্রাতঃভ্রমণে থাকা কয়েকজনের সহায়তায় তিনি পুলিশের কাছে পৌঁছান। কিন্তু তার কথাবার্তা শুনে তাঁকে মানসিক রোগী ভেবে শিলংয়ের একটি মেন্টাল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসকদের নিজের পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করানোর অনুরোধ জানান।
ওই সময়ের কথা স্মরণ করে তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ জানান, শিলং থেকে স্বামীর ‘হ্যালো’ শোনার মুহূর্তটি যেন অবিশ্বাস্য ছিল। উত্তেজনায় তিনি এত জোরে চিৎকার করেছিলেন যে গাড়ির ড্রাইভারও ভয় পেয়ে ব্রেক করে ফেলেন। তথ্যচিত্রে তাদের ছেলে–মেয়েরও সেই নিদারুণ সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।
স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশের কাছে সাধারণ ডায়েরি করতে গেলেও তা নিতে অস্বীকৃতি জানায় বলে অভিযোগ করেন হাসিনা আহমদ। পরে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত সরকারকে তাঁর স্বামীকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিলেও তাতে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও গিয়েছিলেন, কিন্তু গেট থেকেই তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকারদের নিয়ে তৈরি হচ্ছে ‘আয়নাঘর ফাইলস’। এর পঞ্চম পর্বে সালাহউদ্দিন আহমদ ও তার পরিবারের ভয়ের, যন্ত্রণার এবং দীর্ঘ সংগ্রামের এই বিবরণ আবার সামনে এসেছে।


