বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

৩০ নভেম্বর মানববন্ধন

বয়স বিড়ম্বনায় চট্টগ্রামের হাজারো শিক্ষার্থী, দুশ্চিন্তায় অভিভাবকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সারা দেশের মতো বয়স সংক্রান্ত জটিলতায় চট্টগ্রামেও হাজারো শিক্ষার্থী ভর্তি বিড়ম্বনায় পড়েছে। অনলাইন ভর্তির সফটওয়্যারে নির্ধারিত বয়সসীমা কঠোরভাবে প্রয়োগ হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারছেন না অনেক শিক্ষার্থী। এতে করে অভিভাবকদের মাঝে চরম দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। বয়স বিড়ম্বনার দ্রুত সমাধান চেয়ে তারা আন্দোলনের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে আগামী ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করবে অভিভাবকরা।

চট্টগ্রামের অভিভাবক নাজনিন হাসান জানান, তার ছেলে ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেছে। পঞ্চম শ্রেণি শেষ করে এখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার কথা থাকলেও বয়স তিন দিন বেশি হওয়ায় ভর্তি আবেদন করতে পারছেন না।

তিনি বলেন, “সফটওয়্যারে ১ জানুয়ারি ২০১৪ থেকে ১ জানুয়ারি ২০১৬ সালের মধ্যে জন্ম হলে তবেই ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি নিচ্ছে। বয়স তিন দিন বেশি হওয়ায় ছেলেকে ভর্তি করাতে পারছি না। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।”

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী অনলাইনে ভর্তির আবেদন ২১ নভেম্বর বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে চলবে ৫ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

জাতীয় শিক্ষানীতি–২০১০ এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর বয়স ১ জানুয়ারি ২০২১ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮–এর মধ্যে হতে হবে।

নীতিমালা অনুসারে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভর্তির বয়সসীমা হলো— প্রথম শ্রেণি: ৫–৭ বছর (৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ১ জানুয়ারি ২০২১), দ্বিতীয় শ্রেণি: ৬–৮ বছর (৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ থেকে ১ জানুয়ারি ২০২০), তৃতীয় শ্রেণি: ৭–৯ বছর (৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ থেকে ১ জানুয়ারি ২০১৯), চতুর্থ শ্রেণি: ৮–১০ বছর (৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ থেকে ১ জানুয়ারি ২০১৮), পঞ্চম শ্রেণি: ৯–১১ বছর (৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ থেকে ১ জানুয়ারি ২০১৭), ষষ্ঠ শ্রেণি: ১০–১২ বছর (৩১ ডিসেম্বর ২০১৩ থেকে ১ জানুয়ারি ২০১৬), সপ্তম শ্রেণি: ১১–১৩ বছর (৩১ ডিসেম্বর ২০১২ থেকে ১ জানুয়ারি ২০১৫), অষ্টম শ্রেণি: ১২–১৪ বছর (৩১ ডিসেম্বর ২০১১ থেকে ১ জানুয়ারি ২০১৪) ও নবম শ্রেণি: ১৩–১৫ বছর (৩১ ডিসেম্বর ২০১০ থেকে ১ জানুয়ারি ২০১৩)।

বয়সসীমার এ কড়াকড়ির কারণে এখন ভর্তি কার্যক্রমে ব্যাপক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের। তারা মনে করছেন—সফটওয়্যারে নমনীয়তা না থাকায় দীর্ঘদিনের শিক্ষা ধারাবাহিকতা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

অভিভাবকরা জানিয়েছেন, বয়স বিড়ম্বনার কারণে বিপাকে পড়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দ্রুত নীতিমালা সংশোধন বা সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে সমাধান না মিললে আরও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত