বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

মিরসরাইয়ে সরকারি সড়ক পুনঃনির্মাণ ঘিরে জটিলতা নিরসনে প্রশাসনের জরুরি সভা

মিরসরাই প্রতিনিধি :

চট্টগ্রামের মিরসরাই পৌর সদরের একটি সরকারি সড়ক পুনঃনির্মাণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলমান জটিলতা ও জনভোগান্তি নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। বিতর্কিত মালিকানা দাবির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়কটির নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে।

আগামী ২২ ডিসেম্বর বিকাল ৪টায় মিরসরাই পৌরসভা কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ওই সড়ক ব্যবহারকারী স্থানীয় বাসিন্দা এবং মালিকানা দাবি করা ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন মিরসরাই পৌরসভার প্রশাসক আলাউদ্দিন কাদের।

পৌরসভা প্রশাসকের জারি করা নোটিশে জানানো হয়, কোভিড-১৯ (এলজিসিআরআরপি) প্রকল্পের আওতায় চাঁদপুর–গোভনীয়া প্রধান সড়ক থেকে ইঞ্জিনিয়ার ইব্রাহীমের বাড়ি পর্যন্ত (উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন) সড়ক নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন এবং এ সংক্রান্ত ভূমি জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক আলাউদ্দিন কাদের বলেন, সরকারি রাস্তা নির্মাণ শুরু হলে একটি পক্ষ মালিকানা দাবি তোলে। বিষয়টি সমাধানের জন্য বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সড়কটির নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর সদরের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির পুনঃনির্মাণ কাজ শুরু হলে একটি পক্ষ মালিকানা ও অন্যান্য দাবি তুলে কাজ বন্ধ করে দেয়। এতে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত না থাকায় সমস্যাটি দীর্ঘায়িত হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে চাঁদাবাজিতে জড়িত। পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি, মিথ্যা মামলা ও হামলার ভয় দেখিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ভূমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল সমঝোতার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

এই প্রেক্ষাপটে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে কর আইনজীবী প্রিয় দে চাঁদাবাজি, মিথ্যা মামলা ও হামলার প্রতিবাদে এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে আগামী ২৩ ডিসেম্বর মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
সমালোচনার মধ্যেই প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

এ প্রসঙ্গে আইনজীবী প্রিয় দে বলেন, এটি নিঃসন্দেহে প্রশাসনের একটি ভালো উদ্যোগ। তার প্রতিবাদ কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং ন্যায়বিচারের দাবিতে। প্রশাসন যদি স্থায়ী সমাধান করে, সেটিই হবে আন্দোলনের সাফল্য।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, জরুরি সভার মাধ্যমে দ্রুত ও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে এবং সরকারি সড়ক নির্মাণে সব ধরনের অবৈধ বাধা অপসারণ করা হবে। এতে জনদুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থাও পুনরুদ্ধার হবে বলে তারা মনে করছেন।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত