ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক পালাবদলের আভাস মিলছে। প্রায় দেড় দশকের শাসন শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা হারাতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। অপরদিকে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ভূমিধস জয়ের পথে রয়েছে।
সোমবার (৪ মে) রাত ৯টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি এগিয়ে রয়েছে প্রায় ২০৮ আসনে। বিপরীতে তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে যাচ্ছে মাত্র ৭৯টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮ আসনের অনেক বেশি পাওয়ায় বিজেপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রায় নিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
ফলাফল ঘোষণার মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বাসভবনের সামনে বিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভ, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান এবং গণনাকেন্দ্রে তাঁকে ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কলকাতার বিভিন্ন কেন্দ্রে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুলসংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
ভোটের ফলাফল নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, শতাধিক আসনে ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে এবং ফলাফল ‘লুটে নেওয়া হয়েছে’। নিজের আসন ভবানীপুরে গণনা পর্যবেক্ষণ করতেও যান তিনি। অন্যদিকে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী শুরু থেকেই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন এবং নির্বাচনের দিনেই সরকার গঠনের ঘোষণা দেন।
বিজয়ের ইঙ্গিত দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এনডিএর ওপর আস্থা রেখেছে। তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন—বাংলায় অনেক রক্তপাত হয়েছে, এবার ‘বদলা নয়, বদল’।
বিজেপির জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, সমিক ভট্টাচার্য, অগ্নিমিত্রা পাল, রুপা গাঙ্গুলি, নিশীথ প্রামাণিক এবং দিলীপ ঘোষ। দলটি নারী মুখ্যমন্ত্রী দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব সহকারে ভাবছে বলে জানা গেছে।
একই দিনে ভারতের আরও কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। তামিলনাড়ুতে থালাপতি বিজয়-এর দল তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম এগিয়ে রয়েছে ১০৭ আসনে। আসামে বিজেপি এগিয়ে ৯২ আসনে, কেরালায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে ৮৯ আসনে এবং পুদুচেরিতে অল ইন্ডিয়া এনআর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে রয়েছে ১৮ আসনে।
এই নির্বাচনের ফলাফল ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের তৃণমূল শাসনের অবসান এবং বিজেপির উত্থান শুধু রাজ্য রাজনীতিতেই নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। তবে সহিংসতা ও কারচুপির অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা।


