বিশেষ প্রতিনিধি: কক্সবাজারের সাগরদ্বীপ মহেশখালীতে জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত সন্দেহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটকরা হলেন- ঢাবির আরবি বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী রেদোয়ান ফরহাদ ও তার বড় ভাই রাশেদ খান মেমন।
তাদের বাড়ি উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের ইউনুছখালী পশ্চিমপাড়া গ্রামে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দিদারুল ফেরদাউস জানান, তাদের বিরুদ্ধে একটি জঙ্গি সংগঠন গঠন করে তৎপরতা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রেদওয়ান ও তার ভাই রাশেদকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগে ২০১৪ সালেও শাহবাগ থানা পুলিশ রেদোয়ানকে আটক করেছিল।
অন্যদিকে তার ভাই রাশেদ খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জনকে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
তবে জেলা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি-ডিবি) মানস বড়ুয়া জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঢাবি শিক্ষার্থী রেদওয়ান ওই ভুয়া জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তিনি মোটেও জড়িত নন বলে জানিয়েছেন। তার মতে, তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
ঢাকা থেকে তাকে কক্সবাজারে আনা হচ্ছে বলেও জানান ওসি মানস।
আটকদের পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের ইউনুছখালী পশ্চিমপাড়া নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে রাশেদকে এবং পরদিন শুক্রবার বিকেলে নিজ বাড়ি থেকে রেদওয়ানকে তুলে নেয় সাদা পোশাকের পুলিশ। তারপর থেকে দুই ভাইয়ের খোঁজ পাচ্ছে না পরিবার।
রেদওয়ান ফরহাদের বড় ভাই মোহাম্মদ ইসমাইল সাংবাদিকদের জানান, ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে সাদা পোশাকে সাত-আটজন লোক শুক্রবার বিকেলে তাদের বাড়ি থেকে তার ছোট ভাই রেদওয়ানকে ধরে নিয়ে যান। আগের দিন বৃহস্পতিবার বিকেলে তার আরেক ভাই রাশেদকে বাড়ির পাশে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর থেকে দুই ভাইয়ের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মহেশখালী থানায় যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা মেলেনি।


